ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে : শি জিনপিং


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে : শি জিনপিং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান ট্রাম্প দম্পতি।

বৈঠক শেষে আয়োজিত নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার গভীর আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে তাদের বোঝাপড়া হয়েছে। এসব বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

তার ভাষ্য, এই বোঝাপড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেবে।

দায়িত্বশীল পরাশক্তি হিসেবে দুই দেশকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের ওপর জোর দেন। তিনি বলেছেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে।’

নৈশভোজের আয়োজনে বিশ্বের নামীদামি প্রযুক্তি প্রধান নির্বাহীদের এক ছাদের নিচে দেখা যায়। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন অ্যাপলের টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, গুগলের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা।

নৈশভোজের বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও উভয় দেশের জনগণের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়।

‘আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি চমৎকার’, বক্তব্যে নিজেদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প-শি বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু ও ইরান যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এটি এক দশকেরও বেশি সময় পর শির প্রথম ওয়াশিংটন সফর। আর চলতি বছরে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

দুই নেতার এই বৈঠকে অন্যতম বিষয় ছিল তাইওয়ান ইস্যু। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণিজ্যও ছিল দুই নেতার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্প বলেছেন, মে মাসে তার চীন সফরের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে অগ্রগতি হয়েছে। শি দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, দুই দেশের প্রতিযোগিতা হেলদি হওয়া উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কথা হয়েছে দুই নেতার। শি বলেছেন, এআইয়ের উন্নয়ন যেন সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তা উভয় দেশকে নিশ্চিত করতে হবে।

নৈশভোজের অনুষ্ঠানের ফাঁকে ট্রাম্প তার নিজস্ব ঢঙে অতিথিদের হোয়াইট হাউজের নির্মাণাধীন নতুন বলরুম ঘুরে দেখান। এর কিছুক্ষণ আগেই তিনি চীনা প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউজের নবনির্মিত হেলিপ্যাড ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন।

এদিকে, হোয়াইট হাউজের ভেতরে যখন রাজকীয় সুর আর জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন চলছে, বাইরে তখন ছিল ভিন্ন চিত্র। হোয়াইট হাউজের ফটকের সামনে একদল প্রতিবাদকারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। ট্রাম্প ও শি যখন কার্পেটে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন, তখন বাইরে থেকে ‘হংকং থেকে চীন বের হও’ লেখা স্লোগান শোনা গেছে।

সূত্র : রয়টার্স

Link copied!