অতিরিক্ত টিকা মজুত করে বিপাকে ধনী দেশগুলো


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১, ০৩:৫৯ পিএম
অতিরিক্ত টিকা মজুত করে বিপাকে ধনী দেশগুলো

করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের পর থেকেই বিপুল পরিমাণ টিকা মজুত করতে থাকে বিশ্বের ধনী দেশগুলো। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বহু গুণ বেশি মজুত করা এসব টিকা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে ফেলে দিতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবিসি জানায়, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনগণ এখনো এক ডোজ টিকাও পাননি। আর ধনী দেশগুলোতে টিকা দেওয়া হয়েছে দরিদ্র দেশগুলোর চাইতে ১০০ গুণ বেশি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত টিকার ৭৫ শতাংশই কিনেছে ১০টি দেশ। এ পর্যন্ত উৎপাদিত টিকার অর্ধেকই পেয়েছেন বিশ্বের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ।

জুন মাসে জি-সেভেন জোটের দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোকে এক বছরে ১০০ কোটি ডোজ দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ১০ কোটি টিকা দানের কথা দিলেও এ পর্যন্ত ৯০ লাখের কম দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ৫৮ কোটি টিকা দানের আশ্বাস দিয়ে এখন পর্যন্ত দিয়েছে ১৪ কোটি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২৫ কোটি টিকা দেওয়ার কথা বলেও এখনো মাত্র ৮ শতাংশ সরবরাহ করেছে।

এদিকে ধনী দেশগুলোর অনুদান কম থাকায় জাতিসংঘের কোভ্যক্স চুক্তির আওতায় মধ্যম আয়ের ও দরিদ্র দেশগুলো মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশকেও টিকা দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে কোভ্যাক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওরেলিয়া এনগুয়েন সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে খুব কম পরিমাণে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আর উৎপাদিত টিকার মেয়াদও কমে আসছে তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য দেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে বুস্টার ডোজের প্রয়োজন না থাকায় মজুত করা টিকা নিজ দেশের নাগরিকদেরও দিতে পারছে না উন্নত দেশগুলো। তাই এয়ারফিনিটির গবেষক ড. ম্যাট লিনলি বিবিসিকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা দান না করলে প্রায় ২৪ কোটি ১০ লাখ টিকা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ফেলে দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!