• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২, ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলেছিল বিশ্ব গণমাধ্যম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২১, ০৭:১৩ পিএম
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলেছিল বিশ্ব গণমাধ্যম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কেবল বাংলাদেশের জন্যেই শোকাবহ অধ্যায় ছিল না, স্বাধীনতা লাভের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এক জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল গোটা বিশ্ব। বিশ্বগণমাধ্যম ও রাষ্ট্রনেতাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের দূরদর্শিতা সবসময়ই ছিল প্রশংসিত। আর তাই এই কিংবদন্তির মৃত্যুর শোক স্পর্শ করেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকেও। ১৫ আগস্টের হৃদয়বিদারক ঘটনা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল বিশ্বর বিভিন্ন প্রান্তের সংবাদমাধ্যম।

বিবিসি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হলেন শেখ মুজিব। অথচ পাকিস্তানিরা পর্যন্ত তাকে হত্যা করতে সংকোচবোধ করত।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঢাকায় রিপোর্ট করতে আসেন বিবিসির বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক ব্রায়ান ব্যারন। তবে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয় যুক্তরাজ্যে।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্পর্কে তিনি এক কলামে লিখছিলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ও জনগণের হৃদয়ে শেখ মুজিব একদিন সর্বোচ্চ আসনে পুনর্প্রতিষ্ঠিত হবেন। বুলেটে বিক্ষত তাঁর বাসগৃহ ও কবরস্থান পরিণত হবে ঐতিহাসিক স্থানে।

টেলিগ্রাফ

যুক্তরাজ্যের বহুল প্রচারিত দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে’ বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হিসেবে হিসেবে উল্লেখ করে।

ওয়াশিংটন পোস্ট

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের জনক রাষ্ট্র্রপতি মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের সেনা সমর্থিত সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছে। এছাড়াও খবরে বিদ্রোহীদের ইসলামপন্থী ও পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এবিসি নিউজ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের হত্যার খবর শিরোনাম করে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজ। এতে উল্লেখ করা হয়, সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিজ বাড়িতে নিহত হয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামকরণ করেছে নতুন সরকার।

সিবিএস নিউজ

কানাডার রাষ্ট্রীয় চ্যানেল সিবিএস নিউজেও ১৫ আগস্টের খবর প্রচারিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আকস্মিক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনা সমর্থিত সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। বিদ্রোহীদের হাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। জারি হয়েছে সামরিক শাসন ও কারফিউ। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ২০০ অনুসারীর নিহত হওয়ার খবর জানায় সিবিএস নিউজ।

আকাশ বাণী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মিত্রশক্তি ভারতের বিভিন্ন পত্রিকা ও রেডিওতেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচার করা হয়। ১৬ আগস্ট ভারতীয় বেতার আকাশ বাণীর সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে যিশুখ্রিষ্টের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

রেডিও পাকিস্তান ও দৈনিক জং

বিশ্ব গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিবারের হত্যাকাণ্ডকে বর্বরচিত ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ও স্বাধীন বাংলাদেশবিরোধী পাকিস্তানে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ১৫ আগস্ট সকালেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির নিয়ে করাচি ও লাহোরের পত্রপত্রিকায় উল্লাস প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে স্বাগত জানায় রেডিও পাকিস্তান ও উর্দু দৈনিক জং। বঙ্গবন্ধু হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে মোশতাক সরকারকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বঙ্গবন্ধু সরকারের মিত্র দেশগুলোর গণমাধ্যমেও জাতির জনকের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!