সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ভোট গণনা চলছে। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট পিছিয়ে পড়েছে। মধ্য-বামবিরোধী জোট তিন আসনে এগিয়ে রয়েছে।
সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এতে মধ্য-বাম জোট ১৭৬টি আসনে এগিয়ে আছে। ডানপন্থী ক্ষমতাসীন জোট পেয়েছে ১৭৩ আসন।
সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের নেতা ম্যাগদালেনা আন্দেরসন সমর্থকদের বলেছেন, বিরোধী জোট ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছে। এই ফল চূড়ান্ত হলে ‘সুইডেনে নতুন সরকার হবে’।
রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
তবে কে সরকার গঠন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, তিনি নির্বাচনের পর অন্য দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তার মতে, আগামী বছরগুলোয় কে দেশ শাসন করবে, সেটি এখনো খোলা প্রশ্ন।
ক্রিস্টেরসন বলেছেন, চূড়ান্ত ফল পাওয়ার পর বিভিন্ন জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। পার্লামেন্টে বামপন্থী নয় এমন অর্থনৈতিক অবস্থানের দলগুলোর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে মধ্য-বাম জোটের প্রধান দল সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের ফল খারাপ হয়েছে। দলটি ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় এটি ২ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির এটি সবচেয়ে খারাপ ফল হতে পারে।
ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। ২০২২ সালে দলটি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম ভোট পেয়েছে দলটি। ফলে তারা তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। ক্রিস্টেরসনের মডারেটস দল তাদের পেছনে ফেলেছে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অ্যাকেসন বলেছেন, ‘আজ রাতে আমরা জানতে পারব না’ কে পরবর্তী সরকার গঠন করবে।
বুধবার থেকে দেরিতে আসা ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এবং বিদেশে সুইডেনের দূতাবাসগুলোয় দেওয়া ভোট গণনা করা হবে। পার্লামেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সপ্তাহের শেষের আগে পাওয়া যাবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে মধ্য-বাম জোটের বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। বছরের শুরুতে বিভিন্ন জনমত জরিপে বিরোধী জোট প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। তবে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমে যায়। নির্বাচনের শেষ দিকে তা দুই থেকে তিন শতাংশ পয়েন্টে নেমে আসে। ফলে সম্ভাব্য সহজ জয় এখন কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
ম্যাগদালেনা আন্দেরসন জয়ী হলে ইউরোপের বামপন্থী দলগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলো সাম্প্রতিক শক্তিশালী হয়েছে।
গত সপ্তাহেই জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী দল রাজ্য পর্যায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের শিকড় নব্য-নাৎসি আন্দোলনে। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি ডানপন্থী শিবিরের সবচেয়ে বড় দল হয়। এরপর ক্রিস্টেরসনের সংখ্যালঘু সরকারকে পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে তারা।
এখন পর্যন্ত সুইডেন ডেমোক্র্যাটস সরকারে ছিল না। তবে গত এপ্রিলে ক্রিস্টেরসন জানিয়েছিলেন, ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তার মডারেটস দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসকে নিয়ে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত। এমনটি হলে প্রথমবারের মতো দলটি সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবে।
সূত্র : আল জাজিরা





























