বিদেশ গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সাহেরচর গ্রামের মোক্তার হোসেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ১৮ মাস আগে দালালের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন তিনি। তবে দুই মাস ধরে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সর্বশেষ তিনি লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের আশঙ্কা, মানব পাচারকারী চক্রের হাতে মোক্তার হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের সন্দেহের তীর একই গ্রামের সিদ্দিক নামে এক দালালের দিকে। পরিবারের অভিযোগ, লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সিদ্দিক ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে ৬২ লাখ টাকা নিয়েছেন। শুধু টাকাই নয়, মোক্তারকে একাধিকবার ঝুঁকিপূর্ণ পথে সাগরপাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করানো হয়েছে।
মোক্তারের ভাই মনির হোসেনের ভাষ্য, দুই মাস আগে সর্বশেষ মোক্তারের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ এবং কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
মোক্তারকে দেশে বা ইতালিতে পাঠানোর চেষ্টা নিয়ে এর আগেও সিদ্দিকের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি মোক্তারকে পার করে দেওয়ার আশ্বাসে গ্রামের দুজনকে জিম্মায় রেখে পরিবারকে আরও সাড়ে ৯ লাখ টাকা দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মনির হোসেন।
সিদ্দিকের একটি অডিও রেকর্ডে মোক্তারকে তিনবার ডিঙি নৌকায় তুলে সাগরপথে পাঠানোর কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তিনবারই মোক্তার ধরা পড়ে জেলে যান। তবে মোক্তারের পরিবারের কাছ থেকে ৬২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিদ্দিক। তার দাবি, তিনি পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছেন।
মোক্তারের ভাই মনির হোসেনের দাবি, সর্বশেষ মোক্তারের সঙ্গে কথা হয়েছিল দুই মাস আগে। সে সময় তিনি লিবিয়ায় ছিলেন।
অভিযোগ পেয়ে রায়পুরা থানার এএসআই খোকন সাহেরচর গ্রামে গিয়েছিলেন। ঘটনার সত্যতাও পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।




































