রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠাতে উত্তর কোরিয়ার গোপন আলোচনা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০২:৩৭ এএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠাতে উত্তর কোরিয়ার গোপন আলোচনা

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত কি হঠাৎ নেওয়া হয়নি? নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার সেনা নামার প্রায় এক বছর আগেই। অর্থাৎ, রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনা পৌঁছনোর অনেক আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল দুই দেশের সামরিক সমন্বয়ের পরিকল্পনা।

শনিবার প্রকাশিত সিওল ইকোনমিক ডেইলি-র প্রতিবেদনে জাপানি সংবাদমাধ্যম সানকেই শিম্বুন-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে একটি রুশ সামরিক প্রতিনিধি দল উত্তর কোরিয়া সফর করে। ওই সফরে রুশ কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, ওই সময় থেকেই রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার জন্য উত্তর কোরীয় বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা গতি পেতে শুরু করে। এটি ছিল মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা গভীর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রায় এক বছর পর, ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে এবং এরপরই রাশিয়ার কুর্স্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের খবর সামনে আসে।

উত্তর কোরিয়ার একটি সূত্র, যিনি পিয়ংইয়ংয়ের ‘বিদেশি সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের স্মারক হল’ পরিদর্শন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন, ওই প্রদর্শনীতে রাশিয়ায় মোতায়েন উত্তর কোরীয় সেনাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রাখা হয়েছে। সেখানে হতাহতের সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই স্মারক কেন্দ্রে প্রায় ২,২৮৮ জন উত্তর কোরীয় সেনার মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকশো সেনাকে ‘বীর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের নাম, জন্মতারিখ ও মৃত্যুর কারণও নথিভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পশ্চিমা দেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন করতে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়াকে সামরিক সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামরিক প্রযুক্তিগত সুবিধা পেয়েছে।

এর আগে উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছিল যে, রাশিয়াকে সমর্থন করতে তাদের সেনা পাঠানো হয়েছে। পিয়ংইয়ং দাবি করেছিল, দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার জন্য এই সহযোগিতা শুধু রাশিয়াকে সাহায্য করা নয়; এর মাধ্যমে তারা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, সামরিক প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালাতে রাশিয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা ও অস্ত্র সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এই নতুন তথ্য সামনে আসায় আরও একটি প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা কি কেবল ইউক্রেন যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে তৈরি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা?

দুই দেশের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে। কারণ, মস্কো-পিয়ংইয়ং জোট শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, পূর্ব এশিয়া ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!