কুমিল্লার মুরাদনগরে বাড়িতে ঢুকে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ রবিবার ভোর ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই গ্রামে।
নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তার বাড়ি উত্তর পেন্নাই গ্রামে। আনোয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঙ্গরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম।
তার স্বজনরা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এই যুবলীগ নেতা। শনিবার রাতে গোপনে বাড়িতে আসেন তিনি। গভীর রাতে এলাকায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং হয়। এর পরপরই একদল লোক আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বললেন, ‘আমার স্বামীর বাড়ি ফেরার বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক ইউপি মেম্বার ফিরোজ ও তার লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আনোয়ারকে কুপিয়ে ফেলে রাখে। বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।’
আহত স্বামীকে হাসপাতালে নিতেও দেওয়া হয় বাধা- অভিযোগ মোমেনার। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ গেলে সকাল ৬টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও স্বজনদের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ডাকাতির কথা বলে লোকজন জড়ো করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. জসিমের দাবি, প্রায় আড়াই বছর ধরে গ্রামছাড়া আনোয়ার। কিছুদিন আগে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ মেম্বারের লোকজন তার কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা না দেওয়ায় হত্যা করা হয় তাকে।
অভিযুক্ত ফিরোজ উত্তর পেন্নই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেই তিনি। ফোনেও পাওয়া যায়নি তাকে।
বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলমের ভাষ্য, আনোয়ারের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ আমলে এলাকায় তার ছিল একচ্ছত্র প্রভাব। স্থানীয়দের মধ্যে তাকে নিয়ে অসন্তোষ ছিল।
‘ঘটনার আগের রাতেও আনোয়ার এলাকায় গন্ডগোল করতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্ত করে জড়িতদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- বললেন ওসি।






























