ইয়েমেনের আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
শনিবারের এ সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বেসামরিকরাও রয়েছেন বলে দেশটির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, খবর আরব নিউজের।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন দেশটির দক্ষিণপশ্চিমে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হয়।
অপরদিকে ইরান সমর্থিত হুতিদের চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ লড়াইয়ে ৩১ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহরের এক মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় বেসামরিক নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার শুক্রবার হুতিদের অবস্থানে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালায়। এতে দুপক্ষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে দেশটির কিছু তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এটি অন্যতম।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এদিন সরকারি যুদ্ধবিমানগুলো তায়িজ ও হোদেইদাহে হুতিদের অবস্থান, সেনা সমাবেশ ও গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত ১৫ বার আঘাত হেনেছে।
বৃহস্পতিবার হুতিরা তায়িজ ও হোদেইদাহের দক্ষিণাঞ্চলীয় লড়াই প্রান্তগুলো বরাবর বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করলে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আক্রমণে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ব্যবহার করে আর কামানের ব্যাপক গোলাবর্ষণের ছত্রছায়ায় তাদের স্থল সেনারা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।
এরপর থেকে তায়িজ ও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী বন্দর আল-মাখাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলতে থাকে।
এডেন থেকে ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিরা বাব আল-মান্দেব ও আল-মাখার নিকটবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা চালাচ্ছে, এরপর তারা উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দিকে নজর দেবে।
আল জাজিরার সানা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তায়িজের পশ্চিমাঞ্চলে হুতিরা অগ্রগতি লাভ করেছে। সেখানে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্বতের শীর্ষে অবস্থিত সরাকারি বাহিনীর এক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে, এতে সামনের পুরো এলাকা তাদের নজরে চলে এসেছে।
তিনি জানান, আল-বারাহ ও মাকবানাহে একটি মহাসড়ককে ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এই মহাসড়কটি তায়িজ ও আল-মাখাতে অবস্থানরত সরকারি বাহিনীর রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হয়।
হুতিরা আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে খবর। এতে এ সংঘাত কয়েক বছরের মধ্যে ইয়েমেনের সবচেয়ে প্রণাঘাতী লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।



































