নেপালে আকস্মিক বন্যার ৯দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এতে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা জেগেছে।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন— যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।
নেপাল বিদ্যুৎ সংস্থার (এনইএ) কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর তাদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। সম্ভবত টানেলের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার কারণে তারা এ আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। তারা অক্সিজেনের অভাবে ভুগছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বিবিসিকে বলেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী টানেলটির ভেতরে আরও ৩৯ শ্রমিক রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট বন্যার আঘাত হানার পর থেকে তিনি উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে শ্রী রাম নেউপানে জানান, প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে। টানেলের ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারীরা তথ্য পেয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কথা শুনতে পান। এরপর সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
কথা শোনার পর নেপাল সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করে।
নেউপানে বলেছেন, ‘উদ্ধারকারী দল ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ ভেতর থেকে জবাব আসে, ‘ঠিক আছে।’
পরে তিনি জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালে আকস্মিক বন্যার পর ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শত শত শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা প্লাবিত হয়। এতে ১ হাজার ২৫২ জন নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। এরপর থেকে দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেই টানেল ও বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট



















