পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের চোখের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গতকাল রোববার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলেছে, আদিয়ালা কারাগারে পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। চিকিৎসক দলটিতে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসা চলার সঙ্গে সঙ্গে আরও উন্নতি হবে বলে চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সূত্রটি জিও নিউজকে বলেছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে এ স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
ইমরানের আইনজীবী সালমান সফদার গত সপ্তাহে কারাগারে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে আইনজীবী তাঁর উদ্বেগগুলো তুলে ধরেন এবং তাঁর মক্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদন পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে পাঠিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বন্দীর গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ, রক্তচাপ, তাপমাত্রা, রক্তে শর্করার মাত্রাসহ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আছে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। দুই সপ্তাহ আগে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান সিআরভিও নামে চোখের একটি গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন।
সিআরভিও হলো এমন একটি রোগ, যা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেশি থাকা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগে ভোগা বয়স্ক মানুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইমরান খানের পরিবার এবং দলের সদস্যরা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর দাবি জানান তাঁরা। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, ইমরানকে সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইমরানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং বিরোধীদলীয় জোট তেহরিক তাহাফফুজ-ই-আইনের (টিটিএপি) পার্লামেন্ট সদস্যরা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।







































