সম্প্রতি শেষ হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬। শেষ দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি প্রতিরোধে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সদস্য দেশগুলো।
‘গ্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্ট’ নামের এই চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিক মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনকারী জীবাশ্ম জ্বালানী কয়লার ব্যবহার কমাতে প্রথম কার্যকর পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই চুক্তিকে।

চুক্তিতে একদিকে কার্বন নির্গমন কমাতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ দেয়া হয়েছে। আর অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এর বিভিন্ন দিক।
কয়লার ব্যবহার কমাতে বিশেষ জোর
খসড়া চুক্তিতে পর্যায়ক্রমে কয়লার ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ থাকলেও শুরুতে ভারত ও চীন এর বিরোধিতা করে। টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনের মত লক্ষ্য পূরণের আগেই উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে কয়লার ব্যবহার বন্ধ করবে – এমন প্রশ্ন তোলেন ভারতের জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদব। আর তাই শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে কয়লা ব্যবহার ‘পুরোপুরি বন্ধ’ করার পরিবর্তে ‘কমিয়ে আনার’ ব্যাপারে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। প্রথমবারের মতো এবারের জলবায়ু সম্মেলনে সবাইকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি
ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রকল্পে অর্থায়নেরও আশ্বাস আছে চুক্তিতে। যদিও কেবল প্রতিশ্রুতিই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদীরা। যদিও কার্বন নিঃসরণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে সম্মেলন। তাই আগামীতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন সবাই।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। চুক্তিতে আগামী বছরের মধ্যে এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ করার ওপর জোড় দেওয়া হয়েছে।
আবারও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস
২০২০ সালের মধ্যে ধনী ও শিল্পোন্নত ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ হয়নি এখনও। তাই তহবিলের অভাবে উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট সহায়তা পাচ্ছে না। তাই গ্লাসগো চুক্তিতে ২০২৫ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিলে দ্বিগুণ বরাদ্দ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সংস্কার
২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে। তবে এর বেশ কিছু পরিকল্পনা কার্যকর করতে না পারায় এবারের চুক্তিতে সেসব পুনঃমূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা ঠিক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।







































