প্রতিদিন টয়লেট হওয়া ভালো। সুস্থ দেহের লক্ষণ এটি। টয়লেট নিয়মিত হলে খাবারের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। হজমক্রিয়া ভালো হয়। তবে প্রতিবেলা খাওয়ার পরপরই যদি টয়লেটের চাপ আসে তবে তা বিরক্তিকর। এমন বিরক্তিকর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে।
খাওয়ার পরপরই এমন টয়লেটের চাপ আসা স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই অভ্যাস ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) রোগের লক্ষণ হতে পারে। যারা এই রোগে ভোগেন তাদের পরিপাকতন্ত্র অতিসংবেদনশীল হয়। যার কারণ সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক চাপ হতে পারে। আবার খাবার হজমে সমস্যা হলে এমনটা হতে পারে।
খাওয়ার পরপরই টয়লেট হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্সের কারণে হতে পারে এমনটা। গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স হল একটি মানসিক রিফলেস্ক। এই রিফলেক্স গ্যাস্ট্রোইনটেসটিনাল ট্র্যাক্টের একবারে শেষ প্রান্তের রিফ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই সমস্যাকে গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স বলে। খাবার খাওয়ার পরপরই কোলেনে সংকোচন, প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি হজম হয়ে যাওয়া খাবারকে শরীরের বাইরে পৌঁছে বের করে দিতে চায়।
গ্যাসট্রোকোলিক রিফ্লেক্স থাকার নানা কারণ থাকতে পারে। ফুড অ্যালার্জি, উৎকণ্ঠা, গ্যাসট্রিক, ক্রনিক ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ ইত্যাদি সমস্যা থেকে এমনটা হতে পারে। অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে কোনও সমস্যা থাকলেও এটা হয়। আবার শরীরে ইনফেকশন থাকলেও হতে পারে এই রোগ।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডায়াবিটিসের সঙ্গেও রয়েছে এই রোগের বিশেষ যোগ। মশলাদার খাবার খাওয়া, কোল্ড ড্রিংকস, ধূমপান করা, বাজে খাবার খাওয়া, কিছু ওষুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে এই সমস্যা হতে পারে।
এই ধরণের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার উপায়ও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দেন, খাওয়ার পর টয়লেট চাপার সমস্যা কমাতে আপনার খাদ্যাভ্যাসের উপর নজর দিতে হবে। বদলাতে হবে জীবনযাত্রা। আপনাকে খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সেই সঙ্গে অবশ্যই বাইরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এসব রোগীরা শাকসবজি এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে দূরে থাকবেন। তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না। মদ্যপান বা ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। নিয়মিত ঘুম ঠিক রাখুন। কোনওভাবেই যদি এই সমস্যা না কমে তাহলে পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
















