কিয়ারা আদভানি এখন তাঁর আসন্ন ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর মুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। ছবিতে তাঁকে প্যান ইন্ডিয়া তারকা যশের সঙ্গে রোম্যান্স করতে দেখা যাবে। সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবনের উত্থান-পতন এবং শুরুর দিকের সংগ্রাম নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
এক পডকাস্টে কিয়ারা জানান, তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুটা খুব সহজ ছিল না। প্রথম ছবি ‘ফাগলি’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। অভিনেত্রী বলেন, ‘এই ছবির ব্যর্থতার পর খুব কঠিন সময় কেটেছে। তখন মনে হয়েছিল সবকিছু যেন থেমে গেছে। একটা ছবির ব্যর্থতা আপনাকে অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করে। অনেক সময় নিজেকে নিয়ে সংশয় কাজ করত।’
কিয়ারা জানান, প্রথম ছবির ব্যর্থতার পর দীর্ঘ সময় বড় কোনো সাফল্যের মুখ দেখেননি, তবে তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কাজ করে গেছি, অডিশন দিয়েছি, আরও ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম, একদিন না একদিন সুযোগ আসবেই।’ একটু থেমে বলেন, ‘মাঝখানে এমন সময়ও গেছে, যখন মনে হয়েছে হয়তো আর সুযোগ পাব না, কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি।’
কিয়ারা আদভানি জানান, সেই সময় নিজের কাজের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেন। তাঁর কথায়, ‘নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছি। অভিনয়ের নানা দিক নিয়ে কাজ করেছি। নিজেকে প্রতিদিন আরও ভালো করার চেষ্টা করেছি।’ কিয়ারার ভাষ্যে, ‘সংগ্রামের সময়টা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু সেটাই আমাকে শক্ত করেছে। আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, মনে হয় সেই কঠিন দিনগুলো না থাকলে আজকের জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।’
বড় সাফল্য পেতে কিয়ারার বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। পরে ‘কবির সিং’-এর মতো ছবির মাধ্যমে বড় সাফল্য পান। তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এই ছবি। ‘সাফল্য একদিনে আসে না। ধৈর্য রাখতে হয়, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। আমি সেটাই করেছি’, বলেন কিয়ারা।
সিনেমায় পরকীয়াকে উৎসাহিত করার অভিযোগ, কী বললেন আয়ুষ্মান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ট্রোলিং ও নানা গুজবের মুখে পড়েন কিয়ারা। অভিনেত্রী একবার খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, প্লাস্টিক সার্জারির গুজব তাঁকে এতটাই বিচলিত করেছিল যে একসময় নিজেরই মনে হতে শুরু করে, হয়তো সত্যিই তিনি কিছু করিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষ যখন বারবার একই কথা বলতে থাকে, তখন একসময় নিজেই সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেন। মন্তব্যগুলো পড়ে আমি সত্যিই বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম।’ অভিনেত্রী আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্য অনেক সময় শিল্পীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে। ‘আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম, সত্যিই কি আমার মুখে কোনো পরিবর্তন এসেছে? অথচ আমি কিছুই করাইনি। কিন্তু এত মানুষ যখন একই কথা বলে, তখন সেটা মাথার মধ্যে ঘুরতেই থাকে।’ তিনি বলেন, ‘একসময় মন্তব্য পড়া বন্ধ করে দিই। বুঝতে পারছিলাম, এগুলো আমার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে। আসলে মানুষ খুব সহজেই বিচার করে ফেলে, কিন্তু তারা জানে না, এসব কথা একজন মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।’














