জুমার নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, “একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (বাসায়) এসেছি।” তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি শতভাগ বিশ্বাসী যে আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাব। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাব।’
আজ জুমার নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।’
এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামী জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) আটক হয়েছে। নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।
গতকাল রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।
পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় তার (সোহেল) স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।












