‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গেয়ে শিক্ষিকা বিউটির পাশে ডা. মাহমুদা মিতু


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:০০ পিএম
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গেয়ে শিক্ষিকা বিউটির পাশে ডা. মাহমুদা মিতু

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে, অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণের ধারা...’ হুট করেই এই গান এখন তুমুল আলোচনায়। গানের একটি রিলস ভিডিও করেছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। এরপরই নেটিজেনদের একাংশের তোপের মুখে পড়েন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে কোণঠাসা করে ফেলে সিলেটের স্থানীয় কিছু নিউজ পোর্টালও। তবে এটাকে তার সহকর্মীরা কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কাজ মনে করছেন না। তারাও পাশে দাঁড়াচ্ছেন, একই গানে রিলস ভিডিও করে প্রতিবাদ করছেন।

এবার এই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়ালেন সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। সামাজিক মাধ্যমে সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন মাহমুদা মিতু। নিজের শৈশব, পেশাগত জীবন এবং জনজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, একজন মানুষের একটি পরিচয় থাকলেই তার অন্য সব স্বপ্ন, প্রতিভা ও ভালো লাগার অধিকার শেষ হয়ে যায় না।

বিউটির পাশে দাঁড়াতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে তাকে গাইতে দেখা যাচ্ছে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে, অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণের ধারা...’

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহমুদা মিতু জানালেন ছোটবেলায় তিনি ছিলেন স্কুলের ‘অলরাউন্ডার’। গান, জারি, আবৃত্তি, নাচ থেকে শুরু করে ব্যাডমিন্টন—সব ক্ষেত্রেই অংশ নিতেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এত পুরস্কার পেতেন যে, সেগুলো বহন করতে আরেকজনের সাহায্য লাগত।

তিনি বলছেন, কিন্তু বড় হওয়ার পর দেখলাম, ‘সমাজের একটা অংশ সব সময় মানুষকে একটা নির্দিষ্ট খাঁচায় বন্দী করতে চায়। যখন মেয়ে হয়ে জন্মালাম, তখন শুনলাম মেয়েরা এটা পারে না, ওটা পারে না। ডাক্তার হলাম, তখন বলা হলো ডাক্তাররা এটা করতে পারে না, ওটা করতে পারে না। ফেসবুকে ছবিও দেয়া যাবে না। গানের রিলস তো দূরে। আমি আমার মতো চললাম।’

ড. মাহমুদা মিতু বলছেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরও একই ধরনের মানসিকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তার ভাষায়, ‘যেন একজন মানুষের একটি পরিচয় থাকলেই তার অন্য সব স্বপ্ন, প্রতিভা আর ভালো লাগার অধিকার শেষ হয়ে যায়।’

সাইবার বুলিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বললেন, ‘এই মানসিকতাই সাইবার বুলিংকে উসকে দেয়। মানুষকে তার কাজ দিয়ে নয়, তার ব্যক্তিগত পছন্দ, জীবন বা পরিচয় দিয়ে আক্রমণ করা হয়। বরং সেই মানুষকে আক্রমণ করুন যে দেশের টাকা মেরে খায়, দুর্নীতি করে। যারা নারীদের সম্মান করে না।’

সাইবার বুলিং বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, ‘সাইবার বুলিং বন্ধ হোক। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু অপমান, বিদ্বেষ আর চরিত্রহনন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের আমাদের মতো বাঁচতে দিন। আমরা শিক্ষক হই, ডাক্তার হই, এমপি হই কিংবা অন্য যেকোনো পেশায় থাকি—নিজের স্বপ্ন, প্রতিভা আর আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের সবারই আছে।’আ

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!