সবজিতে স্বস্তি, চড়া নিত্যপণ্যের বাজার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
সবজিতে স্বস্তি, চড়া নিত্যপণ্যের বাজার

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ধানমন্ডির শুক্রাবাদ বাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও চাল, চিনি, আটা, ডিম ও দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। মৌসুম ও আবহাওয়ার কারণে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আটা, চিনি ও তরল দুধের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দুই বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটোল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৪০ টাকা ও পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা, গাজর ৭০, টমেটো ১২০ এবং কচু ৬০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ বাজারভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৩০ ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা হলেও গোল লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। কাঁচা কলা হালি ৩০ টাকা এবং কচুর লতি আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজারে বাড়তির চাপ বেশি। বর্তমানে চিনি প্রতি কেজি ১২৫ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১১৫ টাকা। এক মাস আগে ৫৫ টাকা কেজির আটা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। সাধারণ চালের দামে বড় পরিবর্তন না থাকলেও পোলাওর চাল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা পোলাওর চাল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল দুধ প্রতি লিটার ১১০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ১০০ টাকা ছিল।

শুক্রাবাদ বাজারে বাজার করতে আসা সাজ্জাদ বলেছেন, ‘মাসের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তি। এক সপ্তাহের বাজারের যে তালিকা নিয়ে এসেছি, তার অনেক কিছুই কম পরিমাণে নিতে হচ্ছে।’

মাছের বাজারেও দামের চাপ রয়েছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেছেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, তার চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করি। আমাদেরও তো কিছু টাকা লাভ করতে হবে।’

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মৌসুম ও আবহাওয়ার কারণে সবজির দামে ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও আটা, চিনি ও দুধের মতো নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে শুধু সরবরাহ সংকট দায়ী নয়। পাইকারি পর্যায়ের অনিয়ম, অসাধু দালালি ও তদারকির ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। তাদের মতে, খুচরা পর্যায়ে অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে আমদানিকারক ও মিল মালিকদের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা এবং টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানো গেলে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!