রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

চুল কাটার ফুটেজ জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১, ০৭:৪১ পিএম
চুল কাটার ফুটেজ জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ প্রকাশের ‘সাম্প্রতিক’ অনুষ্ঠানে এসে এ কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়া ইসলাম সুস্মিতা। তিনি বলেন, “ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন কোনোভাবেই স্বীকার করছেন না যে কাজটি তিনি করেছেন। আমরা প্রমাণসহ গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি কাচি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। পরীক্ষার সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন তারাও দেখেছেন, স্বীকারও করেছেন।”

সুস্মিতা আরও বলেন, “উনি যে শুধু আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের টর্চার করেছেন তা না, উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রদেরও টর্চার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের বাবাদের চাকরি খেয়ে নিবেন, আমরা অনেক নিচু পর্যায় থেকে এসেছি। চুল কাটার জন্য একজন আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলো। তার অবস্থা এখনও ভালো না। তিনি প্রায়ই অকথ্য ভাষা বলে আমাদের অপমানিত করেছেন। আমরা চাই না এমন একজন নিচু মনের মানুষ আমাদের শিক্ষক হিসেবে থাকুক।” 

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ১৪ জনের চুল কাটার অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে ১১ জন অনশনে বসেছেন। তার মধ্যে ৮ জনকে আজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিবে বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদন যদি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে যায় তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান সুস্মিতা।  

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ে ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় অন্তত ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। চুল কেটে দেওয়ায় অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাজমুল হাসান তুহিন এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও সকল পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে ছাত্রদের দীর্ঘ বৈঠক হয় এবং প্রশাসনিক ভবন খুলে দেয়া হয়।

ওই দিনই অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি শিক্ষক হিসেবে পদত্যাগ করেননি। শিক্ষার্থীরা তাকে বরখাস্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন।

 

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!