১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাটার অভিযোগ

লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্কের নিন্দা


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১, ০৭:২৩ পিএম
লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্কের নিন্দা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্লাটফর্ম ‌‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক’।

গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। 

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, একই বিভাগের শিক্ষক সহকারী প্রক্টর রাজিব অধিকারী ও জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান কিংবা কোন আইনেই একজন নাগরিকের চুল কিংবা পরিচ্ছদের উপর কোনোরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। বরং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "....আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।" 

এছাড়া ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে "আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।"

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৩৪১ ধারা অনুসারে ব্যক্তির স্বাধীন চলাচলে হস্তক্ষেপ ও বাধা প্রদানকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। 

অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গরাই দেশের সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা না করে ১৪ জন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, শারীরিক-মানসিকভাবে লাঞ্চিত করা ও সামাজিক মর্যাদাহানির মত নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন৷ আবার এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিনকে বহিষ্কারের হুমকি প্রদান করেন সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন৷ যার জের ধরে তুহিন আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ফলে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মতো অপরাধও এখানে সংগঠিত হয়েছে৷ 

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নেক্কারজনক আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সামগ্রিকভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে দুর্বৃত্তপনা, অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনের অবাধ স্বেচ্ছাচারীতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ এটি।  শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বহিষ্কার, শোকজ, নিপীড়ন, মোরাল পুলিশিং এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিরোধ তৈরি করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। 

বিবৃতিতে অবিলম্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের স্থায়ী বহিষ্কার, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এই অগণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে সারা দেশে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়৷

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!