• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ

ফিশারিজের শিক্ষক পদে জুলজির গ্র্যাজুয়েট আহ্বান


নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২১, ০৯:৪৪ পিএম
ফিশারিজের শিক্ষক পদে জুলজির গ্র্যাজুয়েট আহ্বান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ওই বিভাগের পাশাপাশি প্রাণিবিদ্যার গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বান করা হয়েছে। প্রাণিবিদ্যাকে ফিশারিজের সমমান দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ১৯ আগস্ট প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে নোবিপ্রবি ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শূন্য পদে নিয়োগের আহ্বান করা হয়। এতে প্রভাষক পদে নিয়োগ যোগ্যতায় জুলজিকে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সমমান দেওয়া হয়।

এর আগে ২৬ জুন ২০২১-এ প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রভাষক পদে নিয়োগ যোগ্যতায় শুধু ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিষয়ের ওপর ডিগ্রি প্রদানকারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করে জুলজিকে একই যোগ্যতার সমমান দেওয়ায় এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা জুলজি বিভাগ থাকা সত্ত্বেও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতায় সমমান দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি জুলজি থেকে ফিশারিজের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এমনকি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েট বাদ দিয়ে নোবিপ্রবির ফিশারিজ গ্র্যাজুয়েটদের থেকে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ১৫-১৬ বছর ধরে এই ফিশারিজ বিভাগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে অনেক গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়েছে যারা এই বিভাগের শিক্ষক হবার যোগ্যতা রাখেন।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বিভাগটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকে ৪টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ তার একটি। এই বিভাগ থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে বের হচ্ছেন। এই অবস্থায় যদি বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলজি বিভাগ থেকে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে। কেউ যদি কোনো বিশেষ সুবিধার জন‍্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করা হবে। আমি ব‍্যক্তিগতভাবে মনে করি এই ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে বঙ্গবন্ধু ফিশারিজ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সালেহ আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, জুলজিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্সের সমমান দেওয়া কোনোভাবে উচিত নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিশারিজ বিভাগ রয়েছে। ফিশারিজ বিভাগ থেকে ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। পাশাপাশি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলজি আলাদা বিভাগ থাকা সত্বেও ফিশারিজ বিভাগে জুলজিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান করা কাম্য নয়।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ৪ নং ধারার, ৬ ও ৯ নং উপধারায় উল্লেখ আছে, বিভাগের নীতিনির্ধারণ বিষয়াদি বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির আওতাভুক্ত থাকিবে। প্ল্যানিং কমিটি নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা-
(ক) বিভাগের সম্প্রসারণ এবং (খ) শিক্ষক, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্লানিং কমিটির কোনো বৈঠক ছাড়াই কমিটির কার্যাবলী সম্পাদন করা হয়েছে। প্ল্যানিং কমিটির কাজ কিভাবে সম্পাদন হয়েছে জানেন না উক্ত কমিটির সদস্যরাও।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দেশের বাহিরে থাকায় বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজী নন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী মাহমুদুল হাসান।

সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর সরকার প্ল্যানিং কমিটির বৈঠক মতামত নিয়েছেন এবং পুনরায় রিপোর্ট তৈরি করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, কোভিড আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। তাই এই মুহূর্তে এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবে।

পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, জুলজি বিভাগ এটি অপশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে কেউ চাইলে আবদেন করতে পারবে। সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়গুলো বিভাগের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই প্রকাশিত করা হয়। নিয়োগ যোগ্যতায় জুওলজি সংযুক্ত করা না করার বিষয়ে বিভাগীয় প্লানিং কমিটি থেকে যদি কোনো সংশোধন আসে তাহলে সেভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলজি আলাদা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও ফিশারিজ বিভাগে কোনো প্রাণিবিদ্যার বিষয়টি সংযুক্ত করা হলো আমার জানা নেই। তবে বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিভাগ যদি নিয়োগ যোগ্যতায় জুলজি সরিয়ে শুধু ফিসারিজ বিষয়টি রাখার জন্য প্ল্যানিং কমিটির বৈঠক অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেয় তাহলে সেটিই বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!