মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবককে হত্যা


পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২১, ০৬:৪৩ পিএম
মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবককে হত্যা

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জের ধরে বিপ্লব ফকির (২৪) নামে এক যুবককে সারা রাত বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নেওয়ার পথে বিপ্লব মারা যায়। এর আগে শুক্রবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে তাকে নির্যাতন করা হয়।

বিপ্লব উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররুপপুর জিগাতলা গ্রামের পান্না ফকিরের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত দুই ভাইকে আটকে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

পূর্ব শত্রুতার জেরে সারারাত বেঁধে রেখে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেন রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম।

পরিবারের বরাত দিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, বিপ্লবের চাচা রতন আলীর সঙ্গে কিছুদিন আগে প্রতিবেশি পলাশ ফকিরের ছেলে শান্ত ফকিরের (২৩) কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় শান্তকে চড় থাপ্পড় মারেন রতন। এ ঘটানায় বিপ্লব ও রতনকে হত্যার হুমকি দেন শান্ত।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, শুক্রবার রাত ৯টায় শান্ত ও তার ভাই অন্তর কৌশলে মোবাইল ফোনে বিপ্লবকে ডেকে নেয়। এরপর পার্শ্ববর্তী জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে নিয়ে তাকে মুখ বেঁধে রেখে সারা রাত মারপিটসহ নির্যাতন চালায়। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বিপ্লবের পরিবার তাকে খুঁজে পায়নি। সকালে প্রতিবেশী জ্যোৎস্না নামে এক নারীকে শান্ত নিজেই বলে বিপ্লব স্কুলের ছাদে আছে।

বিপ্লবের বাবা পান্না ফকির বলেন, “আমার ভাই রতন ও ছেলে বিপ্লব অভিযুক্ত শান্ত ও তার কয়েক বন্ধুকে মাদক সেবনে বাধা দিয়েছিল। সে কারণে শান্ত তাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আজ সকাল ৮টায় স্কুলের ছাদ থেকে বিপ্লবকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। বিপ্লবের সারা শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খবর পেয়ে নিহত বিপ্লবের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। খুনের পুরো বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

Link copied!