• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১,

বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই চলনবিলে


নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২১, ০৭:৩৮ এএম
বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই চলনবিলে

নাটোরের সিংড়া উপজেলার অবস্থিত দেশের বৃহত্তর চলনবিল। নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১০টি উপজেলার, ৬২টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০০ গ্রাম নিয়ে বৃহত্তর এ চলনবিল। বিলে যুক্ত রয়েছে ২১টি নদ-নদী, ৭১টি নালা-খাল ও ৯৩টি ছোট বিল।

বর্ষা মৌসুমে দেশের বৃহত্তম চলনবিলে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা, বর্তমানে তা নেই। এ মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল থৈ থৈ করে পানিতে। তবে এবার চলনবিলে ভরা বর্ষাতেও পানির দেখা নেই। যার প্রভাব পড়েছে বিল এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। বিশেষ করে এ বর্ষা মৌসুমে চলনবিল এলাকার মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্ভর করে। অনেকে মনে করছেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে চলনবিলে। এক সময় ধান ও মাছের প্রাচুর্য ছিল চলনবিলে। বিল ঘেঁষে থাকা শত শত দ্বীপসদৃশ গ্রাম অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করত। বর্ষাকালে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পর্যটক আসেন এ বিলে। নৌভ্রমণের মাধ্যমে চলনবিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন।

পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, চলনবিলে ১৯৮২ সালে মাছের উৎপাদন ছিল ২৬ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন। এরপর ১৯৮৭ সালে ২৪ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন, ১৯৯২ সালে ১৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, ১৯৯৭ সালে ১৫ হাজার ৪২১ মেট্রিক টন, ২০০২ সালে ১২ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন এবং ২০০৬ সালে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন। এই হিসাবে ২৫ বছরে চলনবিলে মাছের উৎপাদন কমেছে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। গড় উৎপাদন কমেছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবছর উৎপাদন কমেছে ৩ শতাংশ।

বিল এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চলনবিলে এক সময় সারা বছর পানি থাকত। উঁচু জমিতে ফসল আবাদ, নদী-খালে মাছ শিকার চলত। শুকনো মৌসুমে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে জেলেদের। বর্ষায় শুরু হয় তাদের মাছ ধরার কাজ। এবার বর্ষায় বিলে পানি কম থাকায় হতাশ বিল অঞ্চলের মানুষ। 

চলনবিল গ্রামের মৎস্যজীবী আব্দুল্লাহ ও করিম মৃধা বলেন, মাছ ধরেই চলে আমাদের জীবন জীবিকা। তাই বর্ষা শুরুর আগেই মাছ ধরার জন্য খেয়া জাল, জাকই জাল, ধুন্দি, চাঁই, দোয়ার, পলোসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে রেখেছি। অথচ বর্ষা মৌসুমেও বিলে তেমন পানি নেই।

চলনবিল পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সভাপতি মো. এমরান আলী রানা বলেন, দাদা-দাদীসহ গ্রামের বয়োবৃদ্ধদের কাছে চলনবিলের অনেক গল্প শুনেছি। এখন শুধু ইতিহাস অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখলে চলনবিল এখন বর্ষা মৌসুমেও পানিশূন্য।

Link copied!