অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বললেন শান্ত

ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য

ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা, অথবা মাউন্ট মঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট ম্যাচে হারিয়ে দেওয়া; বাংলাদেশের ক্রিকেট সাফল্যের আকাশে এই অল্পকয়টিই তো মিটমিট করে জ্বলতে থাকা তারা। তবে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটে পাওয়া জয়টা নিঃসন্দেহে ধ্রুবতারার মতই জ্বলজ্বল করবে চিরদিন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তৃতীয় টেস্ট, দ্বিতীয় সফর। সেটাও ২৩ বছর পর, দলে থাকা কোনো ক্রিকেটারেরই আগে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। প্রতিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য সেরা দল, চোটের কারণে কিংবা বিশ্রামের নামে সেরাদের কেউ নেই দলের বাইরে। তাদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে হেসেখেলে অনায়াসে ৯ উইকেটের জয়। এমন জয়কে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২৬ বছরের অভিযাত্রায় সেরা জয় তো বটেই, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরও সেরা সাফল্য। নাজমুল হোসেন শান্ত তাই বাড়িয়ে বলেননি একবিন্দুও, ম্যাচ শেষে জয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে শান্ত বলেছেন, ‘যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা ও সবচেয়ে বড় জয়। ভবিষ্যতে আমরা আরও বিশেষ কিছু করে দেখাতে চাই।’

সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে শান্ত বলেছেন, ‘আমরা ভীষণ খুশি, নিজেদের এবং ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি সত্যি গর্বিত। কঠোর পরিশ্রমের ফল এটি।’ স্পিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফাস্ট বোলার তৈরি করার মানসিকতার পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগেও পেসাররা টেস্ট ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখাত না। তবে এখন আমরা নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেট খেলছি এবং পেসাররাও এই ফরম্যাটকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে চায়, ভালো করতে চায় এবং নিজেদের বিশ্বমানের বোলার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এটিই তাদের বর্তমান মানসিকতা। মুশফিক ও মমিনুলের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররাও তরুণ পেসারদের বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করছেন।’

মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলা তানজিদ হাসান তামিম এর ব্যাটিং নিয়ে বলেছেন, ‘সে মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে থাকে, কিন্তু এই টেস্টে সে অত্যন্ত ধীরস্থির ছিল এবং বলের গুণাগুণ বিচার করে শট খেলেছে। একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে দল তার কাছ থেকে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মত পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করে, আর ঠিক সেটাই সে আজ করে দেখিয়েছে। এটিই কি বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?-এমন প্রশ্নের উত্তরে শান্ত বলেছেন ‘যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা ও সবচেয়ে বড় জয়। ভবিষ্যতে আমরা আরও বিশেষ কিছু করে দেখাতে চাই।’

২ টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ সিরিজ হারছে না নিশ্চিত, পরের টেস্টটা না হারলে হবে সিরিজ জয়ও। এই প্রসঙ্গে শান্ত বলেছেন, ‘আমাদের সেটার ভালো সুযোগ ও ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তবে এজন্য মাঠে আমাদের চমৎকার ক্রিকেট খেলতে হবে। পুরো পাঁচ দিনই ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলা জরুরি, আর আমি সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করব— যদি আমরা সেশন বাই সেশন এগোতে পারি এবং নিম্ন সারির ব্যাটাররা যদি রান পেয়ে দল গঠনে অবদান রাখতে পারে, তবেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব।’
 

Link copied!