জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। শহরের বিখ্যাত ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্যামিলা। উদ্বোধনী কুচকাওয়াজে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানজুড়ে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ডক্টর হু এর টাইম মেশিনের আদলে সাজানো এক অভিনব পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হয় স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে। লক নেস, বালমোরাল ক্যাসেলসহ দেশটির পরিচিত নিদর্শন ঘুরে সেই পরিবেশনা এসে পৌঁছায় গ্লাসগোর হাইড্রো অ্যারেনায়। এতে অংশ নেন স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি সাইক্লিস্ট স্যার ক্রিস হয় ও স্কটিশ অভিনেতা অ্যালান কামিং, যারা রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্যামিলাকে মঞ্চে নিয়ে আসেন।
এবারের গেমসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম ব্যাটন রিলে। প্রায় ৫০০ দিন ধরে চলা এই ব্যাটন রিলে গ্লাসগোতে এসে শেষ হয়। এরপর ব্যাটন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।
শিল্পনির্দেশক অ্যামেলি হোয়াইটের পরিকল্পনায় হাইড্রো অ্যারেনা রূপ নেয় ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্যমান এক বিশাল জীবন্ত ক্যানভাসে। আলো, লেজার, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্কটিশ সেল্টিক সংগীতের মিশেলে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এরপর একে একে অংশ নেয় ৭৪টি দেশের অ্যাথলেট দল। মার্চপাস্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সামনে লাল-সবুজের পতাকা বহন করেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উদ্বোধনী আয়োজনে স্কটল্যান্ডের লোককাহিনি, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয় নৃত্য, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে। দর্শকদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে স্কটল্যান্ডের পৌরাণিক প্রাণী লক নেস মনস্টার ও ইউনিকর্নের মতো প্রতীকী চরিত্র। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ক্যালাম বিটি, নিনা নেসবিটসহ দেশটির জনপ্রিয় শিল্পীরা।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান। শেষ পর্বে বক্তব্য দেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত সব দেশের অ্যাথলেটদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, গেমসের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন গ্লাসগো পিছিয়ে যায়নি। বরং ‘আমরা পারব কি না’—এই প্রশ্ন না করে ‘কখন শুরু করব’ সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছে শহরটি। তার বক্তব্যের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করেছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো শহরটি এই আসরের আয়োজক হলেও স্কটল্যান্ডে এটি চতুর্থ কমনওয়েলথ গেমস। এবারের আসরে ১০টি মূল ডিসিপ্লিনের পাশাপাশি ছয়টি প্যারা স্পোর্টসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিন হাজারের বেশি অ্যাথলেট। চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ইভেন্ট। মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়বেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর ক্রীড়াবিদেরা।






































