ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে নারী এশিয়া কাপে গেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরে সেই লক্ষ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে ভারতকে এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ১১৪ রান তুলে ৪ বল আগেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাজে ফিল্ডিংসহ স্কোরবোর্ডে আরও কিছু রান যোগ না হওয়ার আক্ষেপে পুড়ছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। অন্যদিকে সোবহানা মোস্তারী দায় দিচ্ছেন ফিল্ডিংয়ের।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নিগার বলেন, ‘আমার মনে হয় এই উইকেটে আমরা ১০ থেকে ১৫ রান কম করেছি। ব্যাটিং ইনিংসটা যেভাবে শুরু করেছিলাম শেষের ওভারগুলোয় আমরা সেভাবে ফিনিশিং দিতে পারিনি। বোলিংয়ের শুরুটাও আমরা দারুণ করেছিলাম, কিন্তু শেষ দিকে এসে আমরা ছন্দ হারিয়ে ফেলি। আমরা কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু সেগুলোর সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। মারুফা দারুণ বল করেছে এবং আমাদের একটি দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছে। সুলতানাও মাঝের ওভারগুলোয় ভালো ছিল। এটা দুর্ভাগ্যজনক— যদি আমরা ফিল্ডিংয়ে মাঝের সময়টায় আরেকটু ভালো করতে পারতাম, তবে ম্যাচের চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত।’
পেস তারকা মারুফা আক্তার এদিন ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। একপর্যায়ে ১৭ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৮৬ রান। সেখান থেকে বাকি ২৯ রান মাত্র ১৪ বলেই তুলে ফেলে লঙ্কানরা। এর মধ্যে রিতু মনির করা ১৮তম ওভার থেকে আসে ১৬ রান। ওই ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন হর্শিতা সামারাবিক্রমা, যদিও ফারজানা ইয়াসমিন মিস না করলে সেটি ক্যাচও হতে পারত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই ক্যাচটিকেই হারের কারণ হিসেবে বড় করে দেখেন ব্যাট হাতে ৩৪ রানের ইনিংস খেলা সোবহানা, ‘১৮তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ১৮তম ওভারে আমরা ডিপ মিড-উইকেটে একটা ক্যাচ মিস করি। ওই ক্যাচটা নিতে পারলে হয়তো ম্যাচটা জিতে যেতাম। তাছাড়া উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। পাওয়ারপ্লেতে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু তারপর আমাদের কিছু ডট বল এবং সিঙ্গেল হয়েছে। এই লক্ষ্যটা যথেষ্ট ছিল না। কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৪০ এর বেশি। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা মাঝের ওভারগুলোয় মন্থর হয়ে পড়েছিলাম। ২-৩ ওভার কোনো বাউন্ডারি হয়নি। আমাদের মাঝের ওভারগুলো নিয়ে কাজ করা উচিত।’
মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে টাইগ্রেসদের জিততেই হবে। কারণ, শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ায় ঝুলে গেছে সেমিফাইনালের টিকিট। যদি নিগারদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়, তাহলে তাদের খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। অবশ্য এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়ানোর লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার।


































