টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠেছে কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড। ফাইনালের মঞ্চে কিউইদের সঙ্গে কে লড়বে শিরোপার লড়াইয়ে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মাঠে নামে পাঁচ বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।
প্রথমবার স্বপ্নের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ফলে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করেছে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এছাড়া ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ফখর জামান। জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে অজিদের প্রয়োজন ১৭৭ রান।
পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিং করতে আসেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। অজিদের হয়ে বোলিংয়ে আক্রমণে আসেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে স্টার্কের গোলাকে চারে পরিণত করে বাবর আজম। সিঙ্গেল ডাবলসে রানের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি প্রতি ওভারেই একটি করে বাউন্ডারি অথবা ওভার বাউন্ডারি মারতে থাকেন পাকিস্তানি ওপেনাররা।
তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরতে হত রিজওয়ানকে। কিন্তু মিড অফে দৌড়ে এসেও ক্যাচ নিতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ফাইন লেগে রিজওয়ানের ক্যাচ ফেলে দেন জাম্পা। ফলে প্রথম ছয় ওভারেই মধ্যেই দুই বার জীবন পান রিজওয়ান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান তুলে পাকিস্তান।
দুর্দান্ত খেলতে থাকা পাকিস্তানের জুটি ভাঙ্গে দলীয় ৭১ রানে। জাম্পার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লং অনে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম। সাজঘরে ফেরার আগে ৫টি চারের মাধ্যেমে ৩৪ বলে ৩৯ রান করেন বাবর।
এরপর দুইবার জীবন পাওয়া রিজওয়ানের সঙ্গী হন ফখর জামান। দুই জন মিলেই অজি বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন। ৪০ বলে নিজের অর্ধশত রান তুলে নেন রিজওয়ান। টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক বছরে ১০০০ রান করার রেকর্ড গড়েন রিজওয়ান। ধীর গতির অর্ধশতের পর ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন তিনি। ফখর জামানের ব্যাট থেকেও আসে কিছু দুর্দান্ত শট। ইনিংসের ১৭তম ওভারে জস হ্যাজেলউডের ওভার থেকে দুইটি ছয়ে ২১ রান তুলে এই জুটি।
রিজওয়ান ও ফখর জামানের ৪৬ বলে ৭২ রানের জুটি ভাঙ্গেন মিচেল স্টার্ক। মিড অফে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে তার আগে ৪টি ছয় ও ৩টি চারের মাধ্যেমে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন তিনি।
রিজওয়ানের পর এসে বিধ্বংসী ব্যাটার আসিফ আলী এসে কোনো রান করেই ফিরেন সাজঘরে। স্মিথের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তার উইকেট তুলে নেন প্যাট কামিন্স। ইনিংসের ১৯তম ওভারে দুর্দান্ত বল করেন কামিন্স। একটি উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মাত্র তিন রান দেন তিনি।
ইনিংসের শেষ ওভারে শোয়েব মালিককে বোল্ড করে ফেরান স্টার্ক। একপাশ ধরে রেখে দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন ফখর জামান। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে অপরাজিত ৫৫* রান। ৪টি ছয় ও ৩টি চারের মাধ্যেমে এ রান করেন তিনি।
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৭৬ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ১৭৭ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা ও প্যাট কামিন্স।


































