ফের কমেছে গ্যাস সরবরাহ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ফের কমেছে গ্যাস সরবরাহ

বঙ্গোপসাগরের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজিবাহী একটি জাহাজ ভিড়তে না পারায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় ১১০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার দুটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ৬৮ কোটি ঘনফুটের মতো।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানান, গতকাল বুধবার এলএনজিবাহী একটি জাহাজ পৌঁছানোর পর ওইদিনই তা টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। অনিবার্য কারণে সৃষ্ট এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের জোগান এমনিতেই কম। তাই এলএনজি সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

দেশে ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্টে। প্রথম টার্মিনালটি স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় টার্মিনালটি থেকে সরবরাহ শুরু হয়। দুটি টার্মিনালের চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর করে।

সাগরের প্রতিকূল আবহাওয়া এর আগেও একাধিকবার সরবরাহে বাধা তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় দ্বিতীয় টার্মিনালটি। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সেটি ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।

চলতি বছরেও বারবার সরবরাহে টান পড়েছে। এপ্রিলে কারিগরি কারণে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। মেরামতের পর টার্মিনালটি আবার চালু হয়। জুলাইয়ে কারিগরি ত্রুটিতে দুই টার্মিনাল থেকে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুটের সরবরাহ নেমে যায় ৬০ কোটি ঘনফুটের নিচে।

আগস্টে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। এতে দুই টার্মিনাল থেকেই সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

এ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবরও এসেছে। এতে জরুরিভিত্তিতে কার্গো কিনতে গিয়ে তিনগুণ বেশি খরচ হচ্ছে।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!