শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের যারা ভারতে অবস্থান নিয়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ই উষ্মা প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। এবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকেও সেই বার্তা দেওয়া হলো।
ভারতের হাই কমিশনার বৃহস্পতিবার সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলেন ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তাকে বার্তাটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মাহ্দী আমিন বলেছেন, ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও পলাতক দণ্ডিতরা যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে না পারে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার দলের আরো নেতাও দেশটিতে রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।
দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রয়েছে নিষিদ্ধ। তবে ভারতে থেকে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনসহ দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হচ্ছে। দণ্ডিতদের দেশে ফিরিয়ে দিতে নয়া দিল্লিকে অনুরোধও জানানো হচ্ছে।
কিন্তু তাতে ভারত সরকারের কোনো সাড়া মিলছে না। আর বিষয়টি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কোন্নয়নের পথে কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে।
ত্রিবেদীর সঙ্গে মাহদী আমিনের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় দুই দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হন।
একই সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার ওপরে জোর দেওয়া হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারা একমত পোষণ করেন যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


































