সরকার কথা না শুনলে রাজপথেই ফয়সালা: ডা. শফিকুর রহমান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
সরকার কথা না শুনলে রাজপথেই ফয়সালা: ডা. শফিকুর রহমান

সরকার বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি ও কথা না শুনলে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং রাজপথের আন্দোলনেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।” তিনি সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার আহ্বান জানান। তবে সংবাদমাধ্যমে তাদের বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ ও ‘মিসলিডিং’ ফটোক্যার্ড তৈরির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইন্টারভিউতে যা বলি, ফটোকার্ডে তা আসে না। কাটপিস করে, লেজ-মাথা কেটে মাঝখান থেকে কথা ঢুকিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নিশ্চয়তা পেলে আমরা সবসময় কথা বলতে প্রস্তুত।”

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন দফায় জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। দাম বাড়িয়ে এটিকে ‘সহনীয় মাত্রা’ বলা হলেও বাস্তবে এর প্রভাবে সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং জনজীবনে সর্বগ্রাসী প্রভাব পড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ দেওয়ার জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে যদি ওইসব দেশের অর্থনীতির সামঞ্জস্য না থাকে, তবে শুধু জ্বালানির দামের তুলনা করা অযৌক্তিক। দেশে এক-দেড় কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে মানুষ উল্টো কাজ হারাচ্ছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর চিন্তাভাবনার কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “এটি একটি অন্যায় সিদ্ধান্ত হবে এবং সরকার এমন উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল তাতে বাধা দেবে। টাকা রোজগার করার জন্য আমরা সংসদে যাইনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল সংসদে দফায় দফায় নোটিশ দিলেও সরকার তা আমলে নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে না। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে গুরুত্ব না পাওয়ায় বিরোধী দল বাধ্য হয়ে রাজপথের আন্দোলনে নেমেছে।

বিরোধী দলের চলমান ঢাকা-রংপুর লংমার্চ নিয়ে সরকারি দলের সমালোচনার কড়া জবাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয়, এগুলো জনগণের দাবি। লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে সরকারি দলের অভিযোগকে ‘পাগলের প্রলাপ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোতে দিশেহারা হয়ে সরকারি দলই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করতে ককটেল ফুটিয়েছে। জামায়াত কেন নিজের কর্মসূচি নিজে বানচাল করবে?”

নিজের সরকারি সুবিধার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি খরচে কোনো বিদেশ সফরে যাননি এবং সরকারি ভাতাও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে অন্য খাতে দিয়ে দেন। এছাড়া নিজের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসায় তিনি থাকেন না; সেটি কেবল বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কাজে ব্যবহার করেন।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদের শীর্ষ নেতারা।
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!