• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীদের


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪, ০৭:২২ পিএম
রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীদের

রমজানের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরইমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে অধিকাংশ পণ্যের দাম। ডলার সংকট, এলসি বন্ধসহ নানা অজুহাতে বাজার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বাজার স্থিতিশীল করতে মাঠে সংশ্লিষ্টরা কাজ করলেও খুব একটা বেশি সুফল মিলছে না। তবে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এফবিসিসিআই বোর্ড রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এ প্রতিশ্রুত দেন। এদিন আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলম।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে এবার যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়েছে, তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। ভারত থেকে আমদানি হলে এটা দেশের জন্য ভালো। তবে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধ করা হলে রাজধানীতে পণ্য আনতে খরচ কমলে দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

শ্যামপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠতে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন রমজানে বাজারে পেঁয়াজের সংকট হবে না। তবে আমরা আশা করছি রমজানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০-৬০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করবো দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার।”

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “খেজুর আমদানিতে উচ্চ ডিউটি না থাকলে অনেক কম দামে খেজুর বিক্রি করা যেত। অথচ যারা ডিউটি নির্ধারণ করেন তাদের কোনো দায় হয় না। দায় হয় ব্যবসায়ীদের।”

রমজানে ব্রয়লার মুরগী, গরুর মাংস, মসলা ইত্যাদির দাম বাড়লে রেস্তোরাঁ মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানান বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান।  এ বিষয়ে এফবিসিসিআই উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

প্রতিবছর রমজান এলেই নানা অজুহাতে দাম বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু হয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে। যা এবারও লক্ষ করা যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ঘোষণা ছাড়াই পণ্যের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে কেউ যাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে এজন্য বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

তিনি বলেন, “সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে যাতে অস্বাভাবিক পার্থক্য না হয় সেজন্য মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এ সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মাহবুবুল আলম বলেন, “রমজান মাস ইবাদতের মাস। আপনারা সারা বছর ব্যবসা করেন, রমজান মাসেও করবেন। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে উৎসব উপলক্ষে ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও তেমন হতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী পণ্যের বেশি দাম রাখবেন না। আপনারা রমজান মাসে ন্যায্য লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এ বিষয়ে সতর্ক আছেন। তাই এই দিক সবাইকে সাবধান হতে হবে। এফবিসিসিআই কোনো অসৎ ব্যবসায়ীর পক্ষে কথা বলবে না।”

রমজানে বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, “বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমিও একমত। পুলিশ দিয়ে বাজার মনিটরিং করানো হোক, তা আমি চাই না। বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনিটরিং করলেই হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তদারকি না করলে ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে। এটা আমরা চাই না। কাজেই আমি প্রতিটি বাজার কমিটিতে অনুরোধ করবো, আপনারা তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেন।”

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, “অসাধু কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে এফবিসিসিআই নেই। তাদের বিরুদ্ধে সবসময় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এফবিসিসিআই থেকেই এবার বাজার মনিটরিং করা হবে।”

এদিন সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন মিল মালিক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ও মালিকরা।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, মো. মুনির হোসেন, পরিচালকবৃন্দ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, মিল মালিক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা।

Link copied!