কিডনিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের অবৈধ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। চক্রটি তিন ভাগে ভাগ হয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেচাকেনা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করতো।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এর আগে সোমবার (১১ অক্টোবর) মধ্যরাতে রাজধানীর নর্দ্দা ও জয়পুরহাটে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-২, র্যাব-৫ ও র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল, দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং ভুক্তভোগী কিডনিদাতাদের চারটি পাসপোর্ট, মেডিকেল চিকিৎসার পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত কাজগপত্র জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন চক্রের অন্যতম হোতা মো. শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ (৩৬), মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), মো. আব্দুল মান্নান (৪৫) ও মো. তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু (৩৮)।
সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তাদের এই চক্রে মোট ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে। তারা তিন ভাগে ভাগ হয়ে মানবদেহের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গের অবৈধ বেচাকেনা করতো।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো জানান, সংঘবদ্ধ এই চক্রের প্রথম দলটি ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। এজন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা’ ও ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামে দুইটি পেইজ পরিচালনা করতো।
র্যাবের এই পরিচালক আরো জানান, চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং কিডনি বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের অর্থের প্রলোভন দেখায়। এরপর প্রলোভনের শিকার ডোনারদের এবং কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এমন রোগীদের ‘ব্লাড ম্যাচিং’ এবং অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এজন্য তারা রাজধানীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবহার করে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো জানান, ডোনার ও রোগীর ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হলে তৃতীয় দলটি তাদের পাসপোর্ট, ভিসা ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে। এরপর উভয়পক্ষকে আকাশ অথবা স্থলপথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানো হয়। এই দলের আরেকটি অংশ পার্শ্ববর্তী দেশে তাদের গ্রহণ করে এবং হাসপাতালে কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের যাবতীয় কাজ করে। এরপর আবার ডোনার ও রোগীদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তাররা কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা গ্রহণ করতো। বিপরীতে তারা ডোনারকে ৩-৪ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র দুই লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে বাকি টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণা করতো। এভাবে তারা শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. আব্দুল মান্নান ও মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগেও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আব্দুল মান্নার এ ধরনের অবৈধ কাজের জন্য আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।


































