এসপিসির টার্গেট ছিল বেকার ও ছাত্ররা : সিআইডি


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২১, ০৪:৪৫ পিএম

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ আত্মসাৎ ছিল মূল লক্ষ্য এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের। তাদের প্রধান টার্গেট ছিল বেকার ও ছাত্ররা। স্বল্প টাকায় বেশি আয় করা যায়, এমন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেকার এবং ছাত্রদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করছিল।

সোমবার বেলা ১টায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ূন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসে’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। গ্রাহকের জমানো টাকা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিভিন্ন উপায়ে এসপিসির মাধ্যমে আয় করা টাকাগুলো তাদের ওয়ালেটে জমা রয়েছে। কিন্তু তারা কোনোভাবেই এ টাকা ক্যাশ আউট করতে পারছেন না। গত তিন-চার মাস ধরে তাদের সব গ্রাহকের একই অবস্থা।

হুমায়ূন কবির আরও জানান, ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে এসপিসি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছে সিআইডি। তবে তদন্তে তাদের আত্মসাতের টাকার অঙ্ক আরও বড় হতে পারে। কারণ তাদের ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি।

ওই কর্মকর্তা জানান, ই-কমার্সের নামে এমএলএম ব্যবসা ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালে আল আমিনসহ প্রতিষ্ঠানটির ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই সময় এসপিসি ২২ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে গ্রেপ্তারের দুই মাসের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আসেন আল আমিন।

২০২০ সালে নিজেদের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দাবি করে যাত্রা শুরু করে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আছেন আল আমিন প্রধান। তিনি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন।

এসপিসি লিমিটেড গত বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে। এসব লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে মোট ২২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা জমা হয়েছে। তোলা হয়েছে মোট চার কোটি সাত লাখ টাকা।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এসপিসি অনুমোদনহীন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা পরিচালনা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এমডি আল আমিন গ্রাহকের ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নামে তিনটি প্রাইভেট কার কিনেছেন। এছাড়া সিটি ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে গ্রাহকের ৩৫ লাখ টাকা তার স্ত্রী সারমীন আক্তারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!