‘৯ মাসে ট্রেনে ১১০ বার পাথর নিক্ষেপ’


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
‘৯ মাসে ট্রেনে ১১০ বার পাথর নিক্ষেপ’

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে ১১০ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙেছে ১০৩টি। পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন ২৯ জন।

রোববার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর রেল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের হার বেড়েছে। পাথরের আঘাতে ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী ও যাত্রীরা আহত হয়েছেন। এমনকি চোখ হারানো ও মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই এবং এটি রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই।”

নুরুল ইসলাম সুজন আরো বলেন, “চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাথর নিক্ষেপকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। মামলা করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ এসব পাথর নিক্ষেপকারীর বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক, ছোট শিশু, টোকাই, ভবঘুরে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন। যে কারণে সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।”

রেলমন্ত্রী জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে বাংলাদেশ রেলওয়ের আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী কেউ যদি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে, তাহলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আবার নিক্ষিপ্ত পাথরে যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে দোষী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। তবে আইন করেও পাথর নিক্ষেপ ঠেকানো যাচ্ছে না।

মন্ত্রী আরো জানান, দেশের পূর্বাঞ্চলের চারটি জেলার পাঁচটি এলাকা ও পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার ১৫টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ-প্রবণ। এলাকাগুলো হলো— চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ড ও বারবকুণ্ড এলাকা, ফেনী জেলার ফাজিলপুর ও কালীদহ এলাকা, নরসিংদী জেলার নরসিংদী, জিনারদী ও ঘোড়াশাল এলাকা, চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা এলাকা, নাটোর জেলার আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সিরাজগঞ্জ জেলারা শহীদ এস মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সলপ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ও জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পাবনা জেলার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বড়ালব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া এলাকা, পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বগুড়া জেলার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গাইবান্ধা জেলার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং খুলনা জেলার ফুলতালা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

নুরুল ইসলাম সুজন আরো জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা-উপজেলার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোকেও সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা চলানোর জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
 

Link copied!