মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নির্মাণ করেছে অ্যানিমেটেড মুভি ‘মুজিব আমার পিতা’।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে ছবিটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (২৬ সেপ্টম্বর) দুপুরে বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
এরআগে মুভিটির টেকনিক্যাল শো এর আয়োজন করা হয়।
জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের গল্প পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমার মনে হয় শিশুদের জানানোর জন্য অ্যানিমেশনের চেয়ে ভালো মাধ্যম আর হতে পারে না। একইভাবে বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা সম্পর্কে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো আর কেউ বলতে পারবেন না। এই দুইয়ের যুগলবন্ধি করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।”
পলক বলেন, “আমরা অ্যানিমেশন শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই। কারণ বর্তমান বিশ্বে অ্যানিমেশন শিল্পের বাজার ৩০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে এবং অ্যানিমেশন শিল্পে দেশের তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে এই চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পলক আরও বলেন, বিশ্বের অ্যানিমেশনের বাজারে প্রবেশ এবং অ্যানিমেশন শিল্পে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিমেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অ্যানিমেশনের বাজারে আমাদের অবস্থান সুদূঢ় করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিমেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। ”
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে ‘মুজিব আমার পিতা’ ছবির প্রিমিয়ার শো হবে। প্রদর্শনীটি হবে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স।
অুনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার রচিত ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা।
সোহেল মোহাম্মদ রানা বলেন, “আমার যখন কাজ শুরু করেছি অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারেননি বাংলাদেশে বসে ফিচার হেলথ-অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। কিন্তু আমরা বিশ্বাস হারাইনি। এই সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, এখনই হয়ত বিশ্বমানের অ্যানিমেশন বানানো সম্ভব নয়। তবে আমরা যাত্রাটা শুরু করেছি।”
শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেরা কাজ করার চেষ্টা করেছি; চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা ওয়ার্কশপ করে অ্যানিমেটর তৈরি করেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রটি পরিচালক আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সামনে অ্যানিমেটরাই দেশের অ্যানিমেশন শিল্পের দৃশ্যপট বদলে দেবে। সেই নতুন দিনের সূচনাটা হচ্ছে ‘মুজিব আমার পিতা’ বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার মধ্য দিয়ে।”
১৬ সেপ্টেম্বর ‘মুজিব আমার পিতা’ চলচ্চিত্রটির সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। শতাধিক কলাকুশলীর শ্রমে নির্মিত হয়েছে ছবিটির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন তন্ময় আহমেদ। ছবিটিতে পরিচালকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের একদল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী কাজ করেছেন। প্রযোজনা সংস্থা প্রোলেন্সার স্টুডিও থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) -এর কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহেল মুহাম্মদ রানাসহ অ্যানিমেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

































