বিশ্বের নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক গঠনের আহ্বান জানিয়ে লিঙ্গ সমতা অর্জনে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বৈঠকে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, “নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে এই উদ্যোগ একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”
নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নারীর ক্ষমতায়নে উপদেষ্টা বোর্ড গঠনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই উদ্যোগকে স্থানীয়করণ করা জরুরি। বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে বিশ্বের নারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার নিউইর্য়কে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে (ভার্চ্যুয়াল) অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় এসডিজি অর্জনের পথে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে সামনে আনতে শেখ হাসিনা পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করেন।
প্রস্তাবগুলো হলো:
প্রথম প্রস্তাব: এসডিজি অর্জনের সফলতা নির্ভর করছে মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণ। এ সময়ে সত্যিকারের জরুরি বিষয় হলো সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সম্পদের বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
তৃতীয় প্রস্তাব: চলমান বৈশ্বিক মহামারির আঘাতে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক দারিদ্র্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থ প্রস্তাব: জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে করোনা থেকে পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।
পঞ্চম প্রস্তাব: প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে মনিটরিং এবং সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেন।






























