জনগণ পাশে থাকলে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় মানছে না। এর মাধ্যমে কার্যত জনগণকে অপমান করা হচ্ছে।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া ১১ দলীয় লং মার্চের অংশ হিসেবে শরীয়তপুরের নাওডোবা গোলচত্বরে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বললেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও মিথ্যাচার করছে। জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হবে। যে জাতি খালি হাতে বুকে গুলি পেতে নিয়েছে, সেই জাতি কোনো অন্যায় মেনে নেবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার না করলে জনগণ লং মার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে স্থায়ীভাবে বিদায় জানাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের নামে সরকার জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে জনগণ সরকারকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
মামুনুল হক আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অধিকার আদায়ে সারা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আয়োজকেরা জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
পথসভা ঘিরে সকাল থেকেই নাওডোবা এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন।



















