বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন এনায়েতুল করিম। উত্তরখান থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যদিও এর আগে মামলা না করার আভাস দিয়েছিলেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম। তিনি বলেছিলেন, মামলা করার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। মামলা করা মানেই আমাদের দেশে আদালতে দৌঁড়াদৌঁড়ি, নানা ধরনের ঝামেলা। কে আর স্বেচ্ছায় এসব ঝামেলায় জড়াতে চায়?
তিনি আরও বলেছেন, তাহসিফ যেহেতু বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন, তাই আমি আশা করি, সরকার তার মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর পেছনে দায়ীদের শনাক্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
এরপর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহ নিতে এসে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেন, ‘তার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না। তাহসিফকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফ সাউরির বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌপুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও ছায়া তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ একেক সময় একেক কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। দীপ কখনো বলছেন, আমাকে বাসার সামনে রেখে তাহসিফ বাসায় চলে গেছে, রাত ১২টার দিকে হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে তারা আলাদা হয়ে যান। পরে আবার বলেছেন, টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর বলেছেন, একদল লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল তাহসিফ।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেছেন, ‘দীপের দেওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সে বলছে, পুলিশের পোশাক পরা কেউ তাদের ধাওয়া দিয়েছিল। কারা ধাওয়া দিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। অনেক কিছুই সে বলেছে, তবে সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে।’



















