• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখ উদ্‌যাপনে প্রস্তুত বাঙালি


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২২, ০২:২৮ পিএম
চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখ উদ্‌যাপনে প্রস্তুত বাঙালি

করোনার কারণে দুই বছর মানুষ ছিল ঘরবন্দী। মহামারির কারণে উৎসবও তখন ছিল নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে উৎসবমুখর বাঙালি ঘরে বন্দী থেকে হাঁসফাঁস করেছেন। আর দিন গুনেছে, আবারও কবে মিলবে মুক্ত আকাশে উৎসব উদযাপনের সুযোগ। 

অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। বুধবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্রসংক্রান্তি, পরের দিন পয়লা বৈশাখ। এবার দীর্ঘ দুই বছর পর বাঙালি তার চিরায়ত নিয়মে পালন করবে চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ। দুই বছর পালন না করার আক্ষেপকে ভুলিয়ে দিতে এবার তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে উৎসব উদযাপনের। 

চৈত্রের শেষ দিনে বাঙালি উদযাপন করে চৈত্রসংক্রান্তি। আবহমান বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই উৎসব। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। কথিত আছে চৈত্রসংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পয়লা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্রসংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় উৎসব।

আগামীকাল চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশেই উদযাপিত হবে নানা অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পকলা একাডেমিতে রয়েছে অনুষ্ঠান। এছাড়া বাঙালির ঘরে ঘরে উদযাপিত হবে এই উৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাংলা বছরের এই দিনটিকে পুণ্য দিন বলে মনে করেন। চৈত্রসংক্রান্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্নান, চড়কপূজা, দান, ব্রত ও উপবাসের মধ্য দিয়ে পালন করেন। 

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চৈত্রসংক্রান্তির উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। এ সময় গৃহস্থরা মেয়ের জামাইকে নিমন্ত্রণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। নতুন পোশাক উপহার ও মিষ্টি মুখের মাধ্যমে মেয়ের জামাইকে বরণ করে নেওয়া হয়। 

বছর বিদায়ের উৎসব পালন করেন ব্যবসায়ীরাও। শুচি-শুদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নতুন করে সাজিয়ে তোলেন। আগের পুরোনো সব জঞ্জাল পরিষ্কার করেন। পুরোনো সব হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন। নতুন বছরের প্রথম দিনে আয়োজন করেন হালখাতা অনুষ্ঠানের।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) পালিত হবে পয়লা বৈশাখ। দুই বছর করোনার কারণে বাঙালি বঞ্চিত ছিল তার প্রিয় অনুষ্ঠান থেকে। তাই এবার তা পুষিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই সারা দেশে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সবাই সবার মতো করে নিচ্ছেন বাড়তি আয়োজনের প্রস্তুতি। মিষ্টি, দই, চিড়া, মুড়ি মুড়কি বাতাসা ইত্যাদি কেনার হিড়িক পড়েছে দোকানে দোকানে। ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন হালখাতার। আর পয়লা বৈশাখের সবচেয়ে বড় আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। 

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রস্তুতি। দুই বছর পর অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, তাই তাদেরও রয়েছে অনুষ্ঠানকে বাড়তি নজরদারি। যাতে মানুষের বিগত বছরের অপ্রাপ্তিকে পূরণ করতে পারেন। 

এদিকে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে বসতে চলেছে মেলা। এসব মেলায় আবালবৃদ্ধবনিতা বাঙালি মিলেমিশে একাকার হয়ে তার সাংস্কৃতিক আবহকে ছড়িয়ে দেবে একে অন্যের অন্তরে। শুদ্ধতায় পূর্ণতা পাবে মানুষের ভালোবাসার উৎসব পয়লা বৈশাখ।

Link copied!