• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

এয়ারলাইন্সের ভুয়া টিকিট বিক্রি করত রশিদ


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০২:১২ পিএম
এয়ারলাইন্সের ভুয়া টিকিট বিক্রি করত রশিদ

এয়ারলাইন্স টিকিট জালিয়াতি চক্রের প্রতারক মাহবুবুর উর রশিদকে (৫১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (১১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কলাবাগান গ্রীনরোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন এয়ালাইন্সের ৮১টি ভুয়া টিকিট, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন, ২টি কম্পিউটার, ১টি কালো রংয়ের হাড জিপগাড়ি, ১২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও একটি ডাচ-বাংলা এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

হাফিজ আক্তার জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বেশ কিছু ট্রাভেলিং অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সি যারা ব্যক্তিবিশেষ বা সাব-এজেন্টের মাঝে বিভিন্ন দেশ যেমন- মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট আগাম বিক্রি করে। নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার পরে তারা যাত্রীদেরকে ই-টিকিটের ফুল আই-টিনারি প্রদান করে যেখানে যাত্রীর নাম, জন্ম তারিখ, পার্সপোট নম্বর ইত্যাদি দেওয়া থাকে এবং কোথায় প্রস্থান স্থান ও কোথায় গন্তব্য স্থান, ট্রানজিট এই সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকে। যাত্রীরা ই-টিকিট বুঝে নিয়ে নিশ্চিন্তে পাসপোর্টের ভিতরে রেখে দেয়। নির্দিষ্ট দিন তারিখে যাত্রীরা ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে বিমান বন্দরে হাজির হয়। ই-টিকিট ও পাসপোর্ট দেওয়ার পর এয়ারলাইন্সের লোকেরা বলেন যে ‘ই-টিকিটের বুকিংটা ঠিক ছিল কিন্তু বুকিং দেওয়ার এক বা দুই দিন পরে পেমেন্টকৃত টাকা রিফান্ড করে তুলে নেওয়া হয়েছে বিধায় টিকিটটি আর বৈধ নেই এবং বাতিল হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার বলেন, “সাধারণ মানুষ বিদেশে কেউ চিকিৎসার জন্য যাবে, কেউ যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কাজে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র হজ বা ওমরাহ করতে, কেউ তার নিয়মিত চাকরিতে যোগদান করতে যাবে। এমন অবস্থায় যখন যাত্রীরা দেখে তাদের টিকিট বাতিল হয়েছে এবং পেমেন্টকৃত টাকা রিফান্ড করে তুলে নেওয়া হয়েছে তখন যাত্রীরা বিপদের মধ্যে পড়ে যায়। পরে যাত্রীরা ওই ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে আবার ৫০ হাজার অথবা ১ লাখ টাকা ফি নিয়ে একই রকম টিকিট দেয়। অধিকাংশ সময়ে প্রমাণিত হয়েছে সেই টিকিটটি ভুয়া। এভাবে একটা পর্যায়ে টিকিট এজেন্সির লোকেরা মোবাইল বন্ধ করে অফিস বদল করে লাপাত্তা হয়ে যায়।”

গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান ডিবি প্রধান।

Link copied!