আপাতত উঠবেন যমুনায়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশ্বমানের আবাসন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশ্বমানের আবাসন

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘বিশ্বমানের’ আবাসনের পরিকল্পনা করে রেখেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে সেটা এখনো ‘পরিকল্পনা’, তাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার হলে আপাতত সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া তারেক রহমান।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, “যমুনা প্রস্তুত হতে মাসখানেক সময় লাগবে। এর আগ পর্যন্ত উনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন বলে শুনেছি।”


নতুন মন্ত্রিসভার আকার বড় হবে না, শপথের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল
১৭ বছরের নির্বাসন ভেঙে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে নতুন সরকারের শপথ।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর থাকার ব্যবস্থা কোথায় হচ্ছে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, “যমুনার সংস্কার এক মাসের ভেতরেই করতে পারব, তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলবেন, সেখানেই আমরা করব। এখনও কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।”

তিনি বলেন, “আপাতত মন্ত্রী মহোদয়দের বাসাগুলো সব রেডি করছি, অফিস রেডি করছি, সচিবালয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে।“

এখন যমুনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সেখানে ওঠেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান তাদের দায়িত্বের দিনগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনাতেই ছিলেন।

২০০৮ সালে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও এ ভবনেই থেকেছেন।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে তার বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শেরেবাংলা নগরের গণভবনকে। ৫ অগাস্ট তার সরকারের পতনের দিন সেখানে ব্যাপক হামলা-লুটপাট হয়। সেই ভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তুলেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দুইবারই তিনি ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায়। শেখ হাসিনা ২০১০ সালে তাকে ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করে। পরে তিনি গুলশানে ভাড়া বাসায় ওঠেন ।

খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি থাকতেন ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায়। শেখ হাসিনার আমলে তাকে ওই বাসা থেকে উৎখাত করা হয়।খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি থাকতেন ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায়। শেখ হাসিনার আমলে তাকে ওই বাসা থেকে উৎখাত করা হয়।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য নতুন করে বাসভবন নির্মাণ করতে আগেই শুরু করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয়ে সুপারিশও জমা দিয়েছে।

ওই কমিটি শেরেবাংলা নগরে দুটি স্থান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার বিষয়টি বিবেচনা করে। যার একটি হল শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, আরেকটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা।

শেষ পর্যন্ত পুরাতন গণভবনের পেছনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকায় নতুন বাসভবন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য একটা নতুন প্রকল্প আমরা রেডি করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখার পরে এটা ফাইনাল করব। এটা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের যে কোনো বাসভবনের চেয়ে আমরা ভালো করার চেষ্টা করব।

“এরিয়াটা এখনো ফাইনাল না। আমরা যেটা করেছি, এখন যে জুলাই মিউজিয়াম, তার পিছনে যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জায়গা, সেখানে আমরা আপাতত চিন্তা করে রেখেছি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

Link copied!