• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯

সাম্প্রদায়িক নিপীড়নবিরোধী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২২, ১১:১৩ এএম
সাম্প্রদায়িক নিপীড়নবিরোধী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

রাজধানীতে ‘চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু,  উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কোষাধ্যক্ষ বিমল মজুমদার, চারণের কেন্দ্রীয় ইনচার্জ ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সোমা।

এ সময় চারণের সদস্যরা সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী একক ও দলীয় গান, আবৃত্তি পরিবেশন করেন। গান পরিবেশন করেছেন সমগীতের সাধারণ সম্পাদক বীথি ঘোষসহ তার দল।

সমাবেশে মফিজুর রহমান লাল্টু বলেন, “আমরা আজ বাংলাদেশের জনগণ খুবই ব্যথিত-ভারাক্রান্ত। অসাম্প্রদায়িক দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর এই নিপীড়ন আমাদেরকে পীড়া দেয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমার একটি অসম্প্রদায়িক দেশ পায়নি। তারা বারবার মাথা চাড়া দিয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা এখন রাজনৈতিক শক্তি ধারণ করেছে। এই যে একপেশে হামলা, তা এমনিতেই হচ্ছে না। ব্যাপারটা এতটা সাদামাটা নয়। ধর্মের সঙ্গে ধর্মের এই সংঘাত আমাদের ভাই-ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে। সব ঘটনার সঙ্গে মুসলমানরা জড়িত, বিষয়টি তা নয়। এই রাষ্ট্রই এদেরকে হেফাজত করে।”

অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে জোর দিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু বলেন, ২০০-৩০০ বছর আগে যদি ইউরোপকে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে ধর্ম কীভাবে নিষ্পেষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। আসলে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষ যে সাম্প্রদায়িক চর্চা করে, তার শিকার হয় কোনো না কোনো গোষ্ঠী। বর্তমানে ধর্মীয় আবমানানার যে চিত্রনাট্য, তা কিন্তু সব ক্ষেত্রে একই রকম। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। আসলে মানুষের মনের ভেতর এই সাম্প্রদায়িকতার বীজ মানুষই রোপণ করে। আর সেটাকে কাজে লাগায় রাজনৈতিক শক্তি। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানুষের ভেতরের সাম্প্রদায়িকতার বীজ উৎপাটন করা সম্ভব। কাজেই আমার মনে হয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে যদি পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তাহলে সাম্প্রদায়িক এই হানাহানি অনেকটা কমে যাবে।”

সাংস্কৃতিক আন্দোলন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সোমা বলেন, “সংস্কৃতির যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা এক দিনের না। আর ধর্মকে পুঁজি করে এই অবমাননা আরও ভংয়কর হয়েছে বেশ আগে থেকেই। একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩-২০২২ সালের মধ্যে শুধু ধর্মের কারণে ৩৯১৩ জন নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেখানে কেবল ধর্মই কি একমাত্র কারণ। আসলে সাম্প্রদায়িক ঘটনার সঙ্গে কিছু স্বার্থ লুকিয়ে আছে। যার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর হচ্ছে, ঘর লুট হচ্ছে। আর এ ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনও নিষ্ক্রিয়। কেবল ধর্মে নয়, এই বিভেদ নারী-পুরুষে, হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব সবখানে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ দেশের সংস্কৃতি কি আসলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার?”

সমাবেশ থেকে ধর্ম- বর্ণ- জাত-পাতের ঊর্ধ্বে মানুষ পরিচয় সমাজ মননে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় ও সাংস্কৃতিক লড়াই এগিয়ে নিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।