বাংলাদেশের সংবাদ জগতের ‘ডটকম’ যুগে প্রবেশ যার হাত দিয়ে, সেই তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই।
ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার তার মৃত্যু হয় ((ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে হঠাৎ করেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর একমাত্র ছেলে রাদ শারার খালিদী লন্ডনেই থাকেন। তার মরদেহ কবে দেশে আনা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় চূড়ান্ত হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে, বলা হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিবৃতিতে।
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশে মুদ্রিত সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি, অনলাইন, ডিজিটাল সব সংবাদমাধ্যমে বিচরণ ছিল সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর।
তার সাংবাদিকতার শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকা দিয়ে। এরপর ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কাজ করেন তিনি। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি কাজ করেছিলেন লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে। সেখানে তিনি সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার পাশাপাশি বহুল আলোচিত 'ডিবেট' অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন।
২০০৫ সালে দেশে ফেরার পর তিনি যোগ দিয়েছিলেন একুশে টেলিভিশনে। তারপর ২০০৬ সালে বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ কেনার পর একে ইন্টারনেট সংবাদপত্রে রূপ দেন তিনি। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তার এই পথচলা শুরু হয়। তখন থেকে আমৃত্যু এই সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশকের পদে ছিলেন তিনি। মাঝে তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আসছে ২৩ অক্টোবর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা। তৌফিক ভাই নিজে সব পরিকল্পনা করছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন দারুণ উজ্জীবিত, উদ্দীপ্ত। কিন্তু তার তিন সপ্তাহ আগে সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়।’
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৪ জুন। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে পড়াশোনার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি সাহিত্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।
























