ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের। কর্মজীবী মায়েদের সংখ্যাও বেড়েছে আগে তুলনায়। তাই সন্তানকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না আজকাল বেশির ভাগ মায়েরও।
অথচ একটি শিশু বেড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মায়ের সঙ্গই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কিন্তু একেবারে যাদের পক্ষে এ কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না তারা কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী।
প্রতিদিন চেষ্টা করুন অন্তত পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করার। এর আদর্শ সময় হতে পারে রাতের বেলা। খেতে খেতে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের দিন কেমন কাটল বা আগামীকাল কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ আলোচনায় সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন। প্রতিদিন বাজারে যাওয়ার সময় সন্তানকেও সঙ্গী করতে পারেন। এতে আশপাশের মানুষ আর সংস্কৃতির সঙ্গে তার পরিচয় হবে। সেই সঙ্গে বাজার করার অভিজ্ঞতা যেমন যুক্ত হবে।
তেমনি শৈশবের স্মৃতিও হবে সুমধুর। যেকোনো সিদ্ধান্তে সন্তানের কাছ থেকে মতামত নিন। সেই মতামত গ্রহণযোগ্য না হলেও, কেন হলো না সেটি বঝিয়ে বলুন। এটি তাকে আরও গভীর ও যুক্তিযুক্তভাবে ভাবতে সাহায্য করবে।
সপ্তাহের যেকোনো একটি দিন তার জন্য বিশেষভাবে সময় রাখুন। আর সে দিনটিতে তাকে পার্কে বেড়াতে নিয়ে যান, তার সঙ্গে খেলুন, ছবি আঁকুন, সিনেমা দেখুন। মোটকথা, সপ্তাহের অন্তত একটি দিন ভরপুর আনন্দে কাটাতে চেষ্টা করুন।
এতে তার বাকি দিনগুলোতে নিজেকে একা মনে হবে না। সকালে অথবা রাতে কিছুটা সময় একসঙ্গে পড়তে বসুন। তাকে গল্পের বই পড়ে শোনান। অথবা নিজের কোনো মিষ্টি অভিজ্ঞতা শোনান। এতে ধীরে ধীরে তার ভেতর একটি কল্পনার রঙিন জগৎ তৈরি হবে। চিন্তাশক্তি বাড়বে।
এইভাবেই সন্তানকে সময় দিতে পারলে কিছুটা হলেও তার একাকিত্ববোধ দূর হবে।