প্রকৃতির সংস্পর্শ পেতে নিজের ঘরের বারান্দাকে রাঙিয়ে তুলতে পারেন নানা রঙিন ফুলের গাছ দিয়ে। এটি শুধু সৌন্দর্য নয়, মানসিক প্রশান্তির জন্যও অসাধারণ উপকারী। ফুলের গাছের মন ভোলানো রঙ ও সুগন্ধ বারান্দাকে জীবন্ত প্রশান্তি এনে দেয়। যা শান্তিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠতে পারে।
রঙিন ফুল মানেই সজীবতা, প্রাণ ও নান্দনিকতা। এটি ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। মানসিক প্রশান্তি দেয়। ফুলের রঙ ও ঘ্রাণ মনকে প্রশান্ত করে, স্ট্রেস কমায়। কিছু ফুলে মৌমাছি, প্রজাপতি বা ছোট পাখির আনাগোনা বাড়ে, যা আপনার বারান্দাকে আরও জীবন্ত করে তুলবে।
বারান্দায় ফুল গাছ কীভাবে সাজাবেন
উচ্চতা ও স্তর তৈরি করুন
সব গাছ এক সারিতে রাখলে একঘেয়ে লাগবে। ছোট গাছ নিচে, মাঝারি টব বালকনি গ্রিলের উপর, আর ঝুলন্ত টব উপরে ঝুলিয়ে দিন।
ঝুলন্ত টব ব্যবহার করুন
ঝুলন্ত টবে বা "হ্যাংগিং পট" ফুল সাজালে দারুণ লাগে। এতে জায়গাও কম লাগে।
রঙের সামঞ্জস্য রাখুন
ফুলের রঙ ও টবের রঙ মিলিয়ে নিলে বারান্দা হয়ে উঠবে আরও সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন।
লাইটিং ব্যবহার করুন
রাতের জন্য কিছু ফেয়ারি লাইট বা ছোট লণ্ঠন টাঙিয়ে দিন। এতে ফুল ও গাছ রাতে আলোকিত হয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করবে।
বারান্দা সাজাতে কোন ফুলের গাছ বেছে নেবেন
বারান্দায় ফুলগাছ বাছাইয়ের সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখুন। যেমন_ গাছটি ছোট টবে মানায় কিনা, পর্যাপ্ত রোদ পায় কিনা, যত্ন নেওয়া সহজ হবে কিনা বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি।
পছন্দের তালিকায় জনপ্রিয় ও রঙিন ফুলের গাছ রাখতে পারেন। যেমন_
গাঁদা: উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙে বারান্দায় প্রাণ নিয়ে আসে। রোদে ভালো হয়।
জিনিয়া: বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায় এবং গরমেও টিকে থাকে।
পেটুনিয়া: ঝুলন্ত টবে চমৎকার লাগে। বেগুনি, সাদা, গোলাপি রঙে পাওয়া যায়।
বেলি বা চামেলি: সাদা ফুলে সুঘ্রাণ এবং সহজ পরিচর্যা।
গোলাপ: বারান্দার ক্লাসিক সৌন্দর্য। ছোট টবে সুন্দরভাবে ফুটবে।
বাগানবিলাস: রোদপ্রিয় এবং টবেই প্রচুর ফুল দেয়।
গোলমরিচ ফুল: কম পানি লাগে, গরমে দারুণ হয়। নানা রঙে পাওয়া যায়।
যেভাবে যত্ন করবেন
প্রতিদিন নয়, মাটির আর্দ্রতা বুঝে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছ পচে যেতে পারে।
মাসে অন্তত ১-২ বার তরল বা জৈব সার দিন। যেমন—সরিষার খোল পচানো পানি।
বারান্দায় যদি রোদ কম থাকে, তাহলে ছায়া সহনশীল গাছ বেছে নিন।
গাছ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করুন। যেমন নিমতেল পান ব্যবহার করলে গছ ভালো থাকবে।