• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

শরণার্থী শিবিরে গান গেয়ে পাঁচ টাকা পেয়েছিলাম: কুমার বিশ্বজিৎ


রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১, ০৪:৪৭ পিএম
শরণার্থী শিবিরে গান গেয়ে পাঁচ টাকা পেয়েছিলাম: কুমার বিশ্বজিৎ

আশির দশক থেকে শুরু করে এখনো গানের জগতেই বিচরণ করছেন কুমার বিশ্বজিৎ। সব বয়সের শ্রোতাদের কাছে তার গান সমান জনপ্রিয়। খুব ছোটবেলাতেই তার গানের হাতে খড়ি। এরপর গানের প্রতি একান্ত ভালোলাগা আর টান থেকেই পরবর্তীতে একজন পেশাদার গায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে আলাপকালে তার গায়ক হয়ে ওঠা, গান নিয়ে পরিকল্পনা, বর্তমান ব্যস্ততাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।

সংবাদ প্রকাশ: যতটুকু জানি ছোটবেলা থেকে আপনার গানের প্রতি আগ্রহ। সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠার শুরুর দিকটার কথা জানতে চাই।

কুমার বিশ্বজিৎ: তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি গান শুরু করি। তখন শরণার্থী শিবিরে গান গাইতাম। গান শুনিয়ে তখন আমি পাঁচ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। অনেক খুশি হয়েছিলাম তখন। এরপর থেকে গানের প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে। ১৯৭৭ সালে ‘রিদম ৭৭’ নামে একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করি আমি। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে গান গাইতাম। কারণ এখনকার মতো তখন স্টেজ শো ছিল না। সেসময় টেলিভিশনেও অনুষ্ঠান করেছি।

সংবাদ প্রকাশ: গায়ক হিসেবে আপনার পরিচিতি বাড়লো কীভাবে?

কুমার বিশ্বজিৎ: ‘তোরে পুতুলের মতো করে’ শিরোনামের গানটি আমার টার্নি পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। ১৯৮২ সালে ‘শিউলিমালা’ অনুষ্ঠানে গাওয়া গানটির মাধ্যমে আমার জনপ্রিয়তা আসে। এরপর আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই বছরই আমার অ্যালবাম বের হয়। সিনেমায়ও প্লেব্যাক করি তখন। তবে এই গানটি আমাকে একটু বিপদেই ফেলে দিয়েছিল।

সংবাদ প্রকাশ: কেমন বিপদ?

কুমার বিশ্বজিৎ: ‘তোরে পুতুলের মতো’ গানটি হিট হওয়ার পর সংগীত পরিচালকরা সিনেমায় ওই একই ধাঁচের গান গাইয়েছেন আমাকে দিয়ে। সেসব গানে চটকদার কিছু কথা লেখা থাকত। কিন্তু একটা সময় বুঝতে পারলাম, আমি ভুল পথে হাঁটছি। তারপর অ্যালবামে ফিরে এলাম। নিজের ইচ্ছামতো গান গাইতে শুরু করলাম। একটা সময় দেখলাম, সিনেমার গানকে ছাড়িয়ে গেছে আমার অ্যালবামের গান। তবে আমি বরাবরই মনে করি যে, চলচ্চিত্রে গান করে আমার একটা লাভ হয়েছে। আমি প্রচুর নতুন কিছু শিখতে পেরেছি, কিভাবে ভয়েস থ্রো করতে হয়, এক্সপ্রেশান দিতে হয়, অর্থাৎ কথার সাথে অভিনয়টাও করা—এই বিষয়গুলো শেখার একটা সুযোগ হয়েছিল।

সংবাদ প্রকাশ: এবার বর্তমানে আসা যাক। কাজের ব্যস্ততা নিয়ে বলুন।

কুমার বিশ্বজিৎ: করোনায় সময়টা খারাপ যাচ্ছে। তবুও গান গাওয়া চলছে। ‘গলুই’ সিনেমার প্লেব্যাক করলাম। কিছু দিন আগে আসিফ ইকবালের দুটো গান করেছি। ক্লোজআপের সুমনা ও মৌমিতা বড়ুয়ার গানের সুর করেছি। এছাড়া আরও বেশকিছু গান আসছে আমার। তবে সেগুলো আসতে আসতে নভেম্বর লেগে যেতে পারে।

সংবাদ প্রকাশ: করোনায় তো ওপেন কনসার্ট বন্ধ। খারাপ লাগা তো আছে নিশ্চয়ই!

কুমার বিশ্বজিৎ: শিল্পীদের আয়ের বড় উৎস হচ্ছে স্টেজ শো। করোনায় সেটা বন্ধ। এরমধ্যে দেখেছি অনলাইন কনসার্ট হতে। করোনার সাথে আমাদের যুদ্ধটা সবার। তাছাড়া এখন মানুষের মন-মেজাজের ঠিক নেই। সবাই আতঙ্কিত। গান শোনার যে মানসিক স্বস্তি দরকার, সেটাও নেই। আশা করি শিগগিরই বিপদ কেটে যাবে। আবার স্টেজে উঠে দর্শক মাতাবেন শিল্পীরা।

সংবাদ প্রকাশ: বাংলা সংগীত নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

কুমার বিশ্বজিৎ: পরিকল্পনা তো আছে। আমি মনে করি, বাংলা সংগীতকে আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ করার আছে। আমি কখনো টাকার পিছে ছুটিনি। গান হিট করার পেছনে ছুটিনি। আমার বরাবরই চেষ্টা, আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শই ছিল আমার কাছে সবকিছু। কখনো গানকে ব্যবসায়িকভাবে দেখিনি। আমার যা কিছু অর্জন সব কিছুই সংগীত থেকে। আমার মনে হয়, সৃষ্টিশীল মানুষ যদি আরও দুইটা জীবন পেত তা হলে অনেক কিছু করতে পারত। এই কথাগুলো আজ বারবার শুধু মনে হচ্ছে।

কথাপ্রকাশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!