যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল করার পর চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ভারত। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ের পর দেশটিতে শুল্ক ঘিরে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘিরে এশিয়ার দেশগুলো যেসব সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার একটি ভারতের এই পদক্ষেপ। আদালতের রায়ের পর গতকাল শনিবার ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যে আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে এটিই সর্বোচ্চ সীমা।
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ভারতের ওই সূত্র বলেছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর সফর বিলম্বিত করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফরের নতুন কোনো তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। সূত্রটি আরও জানায়, মূলত গত শুক্রবারের রায়ের পর শুল্ক নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে ভারতের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রতিনিধিদলটির আজই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনায় ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। সেই শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে এ সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ছিল। বিপরীতে ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্য কিনতে রাজি হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু ও প্রযুক্তিপণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই অন্তর্বর্তী চুক্তি স্থগিত করার জন্য আগেই দাবি জানিয়েছে। আদালতের রায়ের আগে চুক্তির সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
রয়টার্স







































