ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (৪ অক্টোবর) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে আরাগচি বলেন, আমাদের শত্রুরা আবার সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নিলে জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর হবে। আরও বেশি শক্তি দিয়ে আমরা নিজেদের রক্ষা করব।
তিনি আরও বলেন, এখানে সামরিক সমাধান নেই। এমনকি নতুন নিষেধাজ্ঞার ভিত্তিতেও কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
তার মতে, কেবল ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।
এমন সময় তিনি এই বক্তব্য দিলেন, যখন দুই পক্ষের সংঘাত নিরসনে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় আছে। সবশেষ গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পরোক্ষ আলোচনা করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান। তবে ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে আরও আলোচনার পাশাপাশি নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্র আবারও আলোচনার শর্তের সঙ্গে পরমাণু প্রকল্পকে জুড়ে দিতে চেয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা এখন হরমুজ প্রণালিতে মনোযোগ দিচ্ছি।
ওই নৌপথ আবার খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের বন্দর অবরোধসহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে জানিয়েছেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে তেহরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা শুরু করে ওয়াশিংটন ও তেল-আবিব। যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
এ যুদ্ধ শুরুর পর ইতোমধ্যে সাত মাস পার হয়েছে। আপাতত দৃশ্যপটে সরাসরি নেই ইসরায়েল। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। তবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি বদলে যাওয়ায় এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে ‘হরমুজ প্রণালি’।
গত জুনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল দুই পক্ষ। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতেই এই যুদ্ধ প্রয়োজন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পরমাণু তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিলে যুদ্ধের মনোযোগ দ্রুত এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার দিকে সরে যায়। ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।




















