• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৩, ১০:৩৫ এএম
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস

ইসলামি জিহাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে খাদের আদনান নামে এক ফিলিস্তিনিকে কারাগারে আটকে রেখেছিল দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। অবৈধভাবে আটকে রাখায় তিন মাস আগে আমরণ অনশন শুরু করার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ গ্রুপ। এরপর একইদিন রাতের বেলা গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এই হামলা ও পাল্টা হামলা যেন বড় আকার ধারণ না করে সেজন্য আপাতত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে তারা।

বুধবার (৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দুটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, মিসর, কাতার এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় বুধবার রাত ৩টা ৩০ মিনিট থেকে এ যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র তারেক সেলমি বলেছেন, বুধবার ভোর নাগাদ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তারা।

হামাস জানিয়েছে, ইসমাইল হানিয়াহ ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করতে উভয় দেশ এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েল ফাইটার জেট এবং ট্যাংক দিয়ে গাজায় হামলা চালিয়েছে। জবাবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

আল জাজিরা অ্যারাবিককে ফিলিস্তিনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজায় যেন ইসরায়েল আর কোনো হামলা না চালায় সেটির আলোচনার ফলই এই যুদ্ধবিরতি। এছাড়া আদনানের মৃত্যুর পর ফিলিস্তিনের আরেকটি সশস্ত্র দল ইসলামিক জিহাদ গ্রুপ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা থেকে অন্তত ৩০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ইসরায়েলের ছোট শহর সেডেরোতে আঘাত হানে।

অপরদিকে নিরাপত্তা সূত্র এবং ফিলিস্তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাজার বেশ কয়েকটি স্থানকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই স্থানে ২ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার বসবাস। যা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো মধ্যে একটি।

ইসাম আদওয়ান নামে একজন সাংবাদিক আল জাজিরাকে বলেছেন, তিনি তার বাড়ির কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

এদিকে খাদের আদনানের মৃত্যুর পর ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, আদনান ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে এবং চিকিৎসা সেবা নিতে’ অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ইসরায়েলি কারাগার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে আদনানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

এর আগেও এই ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী অনশন করেছিলেন। ২০১৫ সালে আটকের পর টানা ৫৫ দিন কোনো কিছু খাননি তিনি। ওই সময় কথিত ‘প্রশাসনিক আটক’-এর অধীনে তাকে আটক করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ‘কালো আইনের’ অধীনে যাদের আটক করা হয় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ না এনে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা হামোকেদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো ধরনের অভিযোগ ও বিচার কার্যক্রম ছাড়াই ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটকে রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। যা ২০০৩ সালের পর সর্বোচ্চ।

গাজার প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন আদনানের মৃত্যুর খবর শুনে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, “খাদের আদনানকে ঠাণ্ডা মাথায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

তার মৃত্যুর বিষয়টি সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তারা রাস্তায় নেমে আসে। অপরদিকে ইসলামিক জিহাদ এবং হামাসের মতো সশস্ত্র দলগুলো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

Link copied!