দেশি ফল লটকন। বর্ষা মৌসুম এলেই বাজারের লটকনের দেখা পাওয়া যায়। টক-মিষ্টি স্বাদের ফলটি খেতে বেশ মজা। স্বাদ ও পুষ্টিগুণেও ভরপুর। লটকন বেশ কয়েকটি নামে পরিচিত। হাড়ফাটা, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ানসহ আরও অনেক নামে পরিচিত এই ফল। তবে সর্বজনীনভাবে লটকন নামেই বেশি পরিচিত। দেশের লটকনের ফলন ভালো হয়। তাই মৌসুমি এই ফলটি বেশ সহজলভ্য থাকে।
স্বাদে মজাদার লটকনের পুষ্টিগুণের কথা অনেকেরই অজানা। দেশি এই ফলটি ঔষধি গুণে ভরপুর, যা স্বাস্থ্যের জন্য়ও ভালো।
- লটকনে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি পাওয়া যায় লটকন থেকে।
- লটকন ডায়রিয়া রোগের নিরামক। লটকন গাছের শুকনো গুঁড়ো পাতা দিয়ে ডায়রিয়া উপশম হয়।
- লটকন গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের ব্যথা ভালো হয়। জ্বরও নিরাময় হয়।
- লটকনের বীজ গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- কারও বমি বমি ভাব থাকলে লটকন খেতে পারেন। বমি ভাব চলে যাবে।
- লটকন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- লটকন গাছের ছাল ও পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়ে যায়।
- লটকনে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম রয়েছে, যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতার জন্য জরুরি।
- লটকন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়।
- লটকনে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে। ভিটামিন বি-১ এবং ভিটামিন বি-২ উপস্থিত রয়েছে। যা যথাক্রমে ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম এবং ০.২০ মিলিগ্রাম।
- লটকনে ভিটামিন ‘সি’-এ ভরপুর। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লটকন খেলে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
- লটকনে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
- ডায়াবেটিস রোগীর জন্য় লটকন ভালো। এতে ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত লটকন খেতে পারেন।
- ওজন কমাতেও কাজ করে লটকন। মৌসুমে প্রতিদিন লটকন খান ওজন কমে আসবে।
- লটকনে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী খনিজ উপাদান পাওয়া যায়, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
- লটকনে আয়রনের পরিমাণও অনেক, যা রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী।





















