দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না

নিট পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং তার জেরে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থনে সোচ্চার হলেন বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পরিচালিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার দু’দিন পর, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি। 

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে চলা বিক্ষোভের একাধিক ছবি পোস্ট করেন টুইঙ্কেল। তার শেয়ার করা প্রথম ছবিটি ছিল ২৭ বছর বয়সি মডেল রিয়া আহিরের, যিনি শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ চলাকালে আটককৃত আন্দোলনকারীদের বহনকারী পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান আটকে প্রতিবাদ জানান। 

অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন রিয়া। আরেকটি ছবিতে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে সহ-বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে এক নারীকে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। 


ছবিগুলোর ক্যাপশনে টুইঙ্কেল খান্না লেখেন, আমি এমন একটি দেশের নাগরিক হিসেবে গর্বিত, যেখানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখনও প্রতিবাদ জানানোর, প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং টিয়ার গ্যাস ও লাঠির আঘাত সহ্য করার সাহস রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় এটাই যে, তাদের বাধ্য হয়ে এসবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বলিউডের আরও একাধিক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এগিয়ে এসেছেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ যন্তর মন্তরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘চলো সংসদ’ মিছিলে সরাসরি অংশ নেন। এছাড়া সালমান খান, আলিয়া ভাট, সোনাক্ষী সিনহা, ইমরান খান এবং রাজকুমার রাওর মতো তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। 

উল্লেখ্য, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও আমজনতা দিল্লিতে যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন। আন্দোলনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কর্তৃক বেকার তরুণ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তথাকথিত ‘ককরোচ’ শব্দ ব্যবহারের পর, শিক্ষার্থীরা সেই নামটিকেই তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি গড়ে তোলে। 


বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, মানসিক চাপে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ মিছিলের মাধ্যমে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। 

শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ প্রয়োগ করে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষা পদ্ধতির কার্যকর সংস্কার, বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। 

Link copied!