অনেক দিন ধরেই আলোচনায় ছিল ম্যাডোনার বায়োপিক। পরিচালনার জন্য অনেক নির্মাতার নাম শোনা গেছে, প্রযোজনা সংস্থা বদলেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির কাজই শুরু হয়নি। এবার ম্যাডোনা নিজেই জানালেন, তাঁর বায়োপিক কেন আর তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নপর্যায়ে থাকা প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায় মূলত বাজেট নিয়ে মতবিরোধের কারণে।
সম্প্রতি ইন্টারভিউ সাময়ীকিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডোনা বলেন, তাঁর জীবনের গল্প এত বিস্তৃত ও ঘটনাবহুল যে সেটিকে পর্দায় তুলে ধরতে বড় বাজেট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্টুডিও সেই প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেনি। ‘আমার জীবন ছিল অসাধারণ। খুব বড় এক জীবন। তাই বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল,’ বলেন ম্যাডোনা।
চার বছরের প্রস্তুতি, তারপরও ভেস্তে যায় পরিকল্পনা
ম্যাডোনার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি নিয়ে প্রায় দুই বছর চিত্রনাট্য লেখা এবং আরও দুই বছর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলে। কাস্টিং, বাজেট, পরিকল্পনা—সবকিছু নিয়েই দীর্ঘ সময় কাজ করেছিলেন তিনি ও ইউনিভার্সাল পিকচার্স। ব্যয় কমানোর জন্য একপর্যায়ে তিনি সার্বিয়ায় শুটিংয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আস্থা দেখায়নি।
ম্যাডোনা জানান স্টুডিওর এক নির্বাহীর প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, ‘আমরা বিশ্বাস করি না তুমি চার দিনের বেশি সার্বিয়ায় থাকতে পারবে।’ জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা কি স্ক্রিপ্টটা পড়েছ? আমার পুরো জীবনই তো টিকে থাকার সংগ্রাম। আমি সেখানে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি না।’
পরে ম্যাডোনা উপলব্ধি করেন, হয়তো স্টুডিও তাঁর দর্শনের ওপরই যথেষ্ট বিশ্বাস রাখেনি।
নেটফ্লিক্সও সহজ সমাধান আনতে পারেনি
ইউনিভার্সালের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর নেটফ্লিক্স ম্যাডোনার জীবনের গল্পকে সিরিজ হিসেবে নির্মাণের আগ্রহ দেখায়।
কিন্তু সেখানেও নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ইউনিভার্সালের সঙ্গে তৈরি করা চিত্রনাট্য ব্যবহার করতে হলে সেটি আবার কিনে নিতে হতো, আর সেই মূল্যকে ম্যাডোনা ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ফলে ম্যাডোনাকে নতুন করে সব শুরু করতে হয়। শো রানার খোঁজা, নতুন পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে আরও আট-নয় মাস চলে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই পথও এগোয়নি।
জুলিয়া গার্নারকে নিয়েই হওয়ার কথা ছিল বায়োপিক
২০২১ সালে ইউনিভার্সাল একাধিক স্টুডিওকে হারিয়ে ম্যাডোনার বায়োপিকের স্বত্ব অর্জন করেছিল। ছবিটি পরিচালনা ও সহ-লেখার দায়িত্বেও ছিলেন ম্যাডোনা নিজে। ২০২২ সালে দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়ার পর ম্যাডোনার চরিত্রে নির্বাচিত হন জুলিয়া গার্নার।
ছবিটি ম্যাডোনার মিশিগানের শৈশব থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশকের নিউইয়র্কে তাঁর সংগ্রাম এবং ১৯৯৮ সালের অ্যালবাম ‘রে অব লাইট’ প্রকাশ পর্যন্ত সময়কে তুলে ধরার কথা ছিল।
এখনো বেঁচে আছে প্রকল্পের আরেক সংস্করণ
যদিও চলচ্চিত্রটি বাতিল হয়েছে, ম্যাডোনার আত্মজীবনীভিত্তিক একটি সিরিজ এখনো উন্নয়নপর্যায়ে রয়েছে। এটি তৈরি হচ্ছে নির্মাতা শন লেভির সঙ্গে নেটফ্লিক্স চুক্তির আওতায়।
তবে সেই সংস্করণে জুলিয়া গার্নার যুক্ত নেই বলে জানা গেছে।
মজার বিষয় হলো, সম্প্রতি ম্যাডোনা ও গার্নার একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘দ্য স্টুডিও’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে। সেখানে ম্যাডোনার বায়োপিক নিয়েই একটি কাল্পনিক গল্প দেখানো হবে, যেখানে গার্নার ম্যাডোনার চরিত্রে অভিনয় করছেন।
বহু বছর ধরে নিজের জীবনের গল্পকে পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন ম্যাডোনা।
আপাতত সেই স্বপ্নের চলচ্চিত্রটি আলোর মুখ না দেখলেও, তাঁর জীবনের কাহিনি অন্য কোনো রূপে দর্শকের সামনে আসার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।






































